প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২৬, ২০২৬, ১০:৩৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৮, ২০২৬, ২:০১ পি.এম
প্র/তিবন্ধী ৩ ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা হল প্রায় ১২ লাখ টাকা
চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় মানবেতর জীবনযাপন করা তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের সহায়তায় দেশ-বিদেশের মানুষের পাঠানো ১১ লাখ ৭৬ হাজার ২৮-১ টাকা একটি বিশেষ ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়েছে। ডিবিসি নিউজে তাদের করুণ জীবনসংগ্রাম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মানুষের এই অভাবনীয় সাড়া মেলে।
আজ রবিবার (৭ জুন) বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে তিন ভাইকে নিয়ে এক বৈঠকের পর তাদের নামে অগ্রণী ব্যাংকের বাউফল শাখায় নতুন এই হিসাবটি খোলা হয়।
এর আগে ডিবিসি নিউজে বাউফলের ধুলিয়া ইউনিয়নের চাদকাঠি গ্রামের দাসনগর এলাকার বাবা-মা হারানো তিন প্রতিবন্ধী ভাই রিপন দাস, সাধু দাস ও নিধু দাসের জীবনযাপন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। প্রতিবেদনটি দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সহায়তার অর্থ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা অমিত দাস জানান, সংবাদ প্রচারের আগে বিভিন্নজনের সহায়তায় প্রায় দুই লাখ টাকা জমা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ডিবিসি নিউজে প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং প্রবাসীদের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিং ও অন্যান্য মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আসতে শুরু করে। সব মিলিয়ে বর্তমানে ১১ লাখ ৭৬ হাজার ২৮১ টাকা ব্যাংকে জমা করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে তিন ভাইয়ের কল্যাণে তা সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়।
সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরাও তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার এক মাসের বেতন বাবদ ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছেন, যা পৃথকভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালেহ আহমদ জানান, তিন ভাইয়ের উপস্থিতিতে ব্যাংকে হিসাব খোলা হয়েছে। এই হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ইউএনও এবং সমাজসেবা কর্মকর্তার যৌথ অনুমোদন লাগবে।
তিনি আরও জানান, তিন ভাইয়ের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা তাদের সুস্থ ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, চিকিৎসা, জরুরি প্রয়োজন বা বিশেষ কোনো কাজে প্রশাসনের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যাংক থেকে টাকা তোলা যাবে। এছাড়া জমাকৃত অর্থের মুনাফার একটি অংশ নিয়মিতভাবে তাদের জীবনযাপনের খরচে ব্যবহার করা হবে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, একসময় দুবেলা খাবারের জন্য সংগ্রাম করা এই ভিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের জীবনে দেশবাসীর এই সহায়তা নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে। তবে শুধু আর্থিক সহায়তাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে, তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, সুচিকিৎসা ও স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত