প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১, ২০২৬, ৯:৫৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
ফটিকছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে নিহত, বাসে আগুন
চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের ফটিকছড়িতে বিআরটিসি বাসের চাপায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ জুন) সকাল ১০টার দিকে পাইন্দং ইউনিয়নের আমতল এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের করবল্লা টিলার মালেক শাহ মসজিদ এলাকার বাসিন্দা এজাহার মিয়ার ছেলে মো. শাহজাহান (৫০) এবং তার ছেলে মোহাম্মদ আরিফ (১৮)। তারা পেশায় মেকানিক ছিলেন এবং পাশের বৃন্দাবনহাট এলাকায় একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজ পরিচালনা করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে শাহজাহান ও তার ছেলে মোটরসাইকেলে করে তাদের গ্যারেজে যাচ্ছিলেন। আমতল এলাকায় পৌঁছালে খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রামমুখী একটি দ্রুতগামী বিআরটিসি বাস তাদের চাপা দেয়।
এতে ঘটনাস্থলেই বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসটি আটকে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি অভিমুখী শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে যান চলাচল।পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই বাসের অধিকাংশ অংশ পুড়ে যায়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ ও ফটিকছড়ি থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতাকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপুর ১২টার দিকে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক আইন না মানার কারণে প্রায়ই এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও গতিরোধক ব্যবস্থার অভাবকেও তারা দায়ী করছেন।
নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ওসি মো. মোবারক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালের কণ্ঠকে জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় বাসের আগুন নেভানো হয়েছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত