শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তে পৃথক অভিযানে ৩ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার: আটক–১

বান্দরবান প্রতিনিধি
বান্দরবানের সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা পৃথক দুইটি মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ লাখ ৩০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছেন। এ সময় ৮০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। অপর অভিযানে ২ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা মালিকবিহীন অবস্থায় জব্দ করা হয়।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, (পিএসসি) রোববার (২১ ফেব্রুয়ারী) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘুমধুম বিওপির একটি আভিযানিক টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার-৩১ থেকে প্রায় ১ দশমিক ১ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কাঁকড়া ব্রিজ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় এফডিএমএন ক্যাম্প-০৯, ব্লক এইচ-১ এর বাসিন্দা বছির আহম্মেদ (৫০) নামের এক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ৮০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটক বছির আহম্মেদ মৃত আবু সিদ্দিকের ছেলে।
এর আগে শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে একই ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বাইশফাঁড়ী বিওপির টহলদল সীমান্ত পিলার-৩৬ থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাঁশঝাড় এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় পরিত্যক্ত একটি ব্যাগ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম পিবিজিএম, (পিএসসি) বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, বরং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান জোরদার করা হবে।
এদিকে, নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বাতেন মৃধা এ প্রতিবেদককে বলেন, বিজিবি কর্তৃক আটক আসামি ও উদ্ধারকৃত ইয়াবা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হবে।
বিজিবি সূত্রে আরও জানা যায়, উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯৯ কোটি টাকার বেশি। আটক ব্যক্তিকে উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সাম্প্রতিক এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত