সোমবার, মার্চ ১৬, ২০২৬

বান্দরবানে ৫ ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

বান্দরবান প্রতিনিধি 
বান্দরবানে পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকান্ডের অভিযোগে ব্রিকফিল্ড মাফিয়া খ্যাত ৮ জন ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
বান্দরবান সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও স্পেশাল পরিবেশ আদালতের ম্যাজিস্ট্রট মো.আনোয়ার হোসেন গ্রেফতারী পরোয়ানার আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও স্পেশাল পরিবেশ আদালতের. স্টেনোগ্রাফার মো.মাহাবুবুল কাদের।
আদালত ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সুত্রে জানা যায়, জেলার পাঁচটি উপজেলায় পরিবেশ আইন অমান্য করে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই প্রায় ৭০টি ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৪২টি ইটভাটা সচল রয়েছে।
এর আগে কয়েকদফা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কিছু ইটভাটাকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয় এবং বুলডোজার ও এক্সকেভেটর দিয়ে কয়েকটি ভাটা ভেঙে দেওয়া হলেও অবৈধ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকান্ডের অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর আটটি ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় আটজন মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে পরিবেশ আদালত।
পরোয়ানা জারি হওয়া ভাটার মালিকরা হলেন, থানচি উপজেলার এমএসবি ইটভাটা মালিক মোঃ আনিসুর রহমান সুজন, আলিকদম উপজেলার এবিএম ইটভাটার মালিক সামশুদ্দিন ও এখলাচুর রহমান, ইউবিএম ইটভাটার মালিক জামাল উদ্দিন। এফবিএম ইটভাটার মালিক সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর ভাই শওকত তালুকদার এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিবিএম ইটভাটার মালিক মোহাম্মদ আবু ছৈয়দ, আবুল বশর ও ফরিদ আহমদ।
পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়ের করা এসব মামলায় বান্দরবান সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও স্পেশাল পরিবেশ আদালতের ম্যাজিস্ট্রট মো.আনোয়ার হোসেন গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এই গ্রেফতারী পরোয়ানার আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিবেশ আদালতের স্টেনোগ্রাফার মো.মাহাবুবুল কাদের বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়ের করা পাঁচটি মামলায় আদালত সংশ্লিষ্ট ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো.রেজাউল করিম জানান, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহযোগিতায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এসব অবৈধ ইটভাটা থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং আটটি ভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে এতো অভিযানের পরেও ঠেকানো যাচ্ছেনা এইসব অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম। জেলাজুড়ে প্রায় অর্ধশতাধিক অবৈধ ইটভাটা কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। নিয়মিত এইসব ইটভাটায় বনের কাঠ পুড়িয়ে পাহাড়ি মাটি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট। যার ফলে পার্বত্য এই জেলার প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে ধারণা পরিবেশবিদদের।

সর্বাধিক পঠিত