জানা গেছে, নৌকাটিতে মোট ১০৫ জন আরোহী ছিলেন। এটি লিবিয়ার উপকূলীয় শহর তাজাউর থেকে ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। দুর্ঘটনাটি লিবিয়ার ‘বৌরি অয়েল ফিল্ড’ থেকে প্রায় ১৪ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে ঘটে।
ইতালীয় এনজিও সংস্থা ‘মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান’ জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের কারণে নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে ডুবে যায়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে একই তথ্য জানিয়েছেন।
উদ্ধারকৃত ৩২ জনই পুরুষ এবং তারা বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিসরের নাগরিক। জার্মান সংস্থা ‘সি-ওয়াচ’-এর পাঠানো পর্যবেক্ষণ বিমানের ভিডিওতে দেখা গেছে, ডুবে যাওয়া নৌকার নিচের অংশে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন কয়েকজন অভিবাসনপ্রত্যাশী।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের এবং দুটি মরদেহ ইতোমধ্যে ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ল্যাম্পেদুসায় নেওয়া হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে আসছে।
উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, নিখোঁজদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। দুর্ঘটনাটি লিবিয়ার নিয়ন্ত্রিত ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ (এসএআর) জোনে ঘটলেও মূল উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইতালীয় ও জার্মান সংস্থাগুলো।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ‘মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান’ এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তারা ইউরোপীয় দেশগুলোকে আরও মানবিক ও নিরাপদ অভিবাসননীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, উন্নত জীবনের আশায় এশিয়া ও আফ্রিকার হাজারো মানুষ প্রতিবছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লিবিয়া বা তুরস্ক উপকূল থেকে ইতালি ও গ্রিসের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। ভূমধ্যসাগরকে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক অভিবাসন রুট হিসেবে ধরা হয়।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ৭২৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।