ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভেতর মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না’ সম্প্রতি এমন এক নির্দেশনা জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এমন নির্দেশনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। এমনকী প্রতিক্রিয়া দেখান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও। মোবাইল ফোন নিয়ে এমন নির্দেশনা তুলে নিতে নির্বাচন কমিশনকে আলটিমেটামও দেন নেতারা।
এ বিষয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমকে বলেন, কমিশনের সিদ্ধান্ত মোটেও যুক্তিসঙ্গত হয়নি এবং ভোটার, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের জন্য পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে কমিশনকেই।
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ভোটারদের মধ্যে ভয় ও শঙ্কা সৃষ্টি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এ সিদ্ধান্ত বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে এক জনসভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশনকে এই বিধিনিষেধ আজ সোমবার দিনের মধ্যেই পরিবর্তন না করলে কাল তারা কমিশন ঘেরাও করবেন।
এছাড়াও নতুন করে আলোচনায় আসে সাংবাদিকরাও কি তাহলে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন না? এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অব.) বলেন, মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে সাংবাদিকদের জন্য কোনো বাধা নেই। আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সাংবাদিকদের নির্বাচনী বুথ পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
গতকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে বলা হয়, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না।
পরিপত্রে বলা হয়, প্রিজাইডিং অফিসার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ-আনসার সদস্য ছাড়া অন্য কেউ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও ওই পরিপত্রে জানানো হয়।