প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২৮, ২০২৬, ৮:০৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২৮, ২০২৬, ১১:২৬ এ.এম
মরণফাঁদে পরিণত ঈদগাঁওর আলমাছিয়া সড়ক, চরম ভোগান্তিতে স্থানীয়রা
মোহাম্মদ সেলিম, ঈদগাঁও প্রতিনিধিঃ
ঈদগাঁও উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ আলমাছিয়া মাদ্রাসা সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটির বেহাল দশায় চরম ক্ষোভ ও ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির বঙ্কিম বাজার পয়েন্টের একটি বড় অংশে দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। সড়কের দুই পাশে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা গড়ে তোলায় এবং পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই এখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এছাড়া, জমে থাকা পানির নিচে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে, যা খালি চোখে দেখা যায় না। ফলে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে যানবাহন ও পথচারীদের।
এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ঈদগাঁও আলমাছিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা, ঈদগাহ রশিদ আহমদ কলেজ, ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, ঈদগাহ আদর্শ শিক্ষা নিকেতন ও ঈদগাহ শাহ জব্বারিয়া দাখিল মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন। এছাড়া, ঈদগাঁও বাজারের যানজট এড়াতে বিকল্প পথ হিসেবে অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন জরুরি সেবার যানবাহনও এই সড়ক ব্যবহার করে থাকে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চললেও সংস্কারে কারো কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। পানির কারণে চলাচলের সুবিধার্থে সড়কের একপাশে দায়সারাভাবে বালির বস্তা ফেলে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় দোকানদাররা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পানি নিষ্কাশনের কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় সড়কটি সবসময় কাদাপানিতে একাকার হয়ে থাকে। দেখার যেন কেউ নেই।”
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির এমন বেহাল দশা মেনে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইনবক্সে বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি জনদুর্ভোগের এই সমস্যাটি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কালক্ষেপণ না করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, যাতে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত