
নিজস্ব প্রতিবেদক
মাছ লুটের অভিযোগ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও দৈনিক সকালের কক্সবাজার পত্রিকার প্রতিবেদক শাহেদ ফেরদৌস হিরুর বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন আরফাত চৌধুরী।
আরাফাত চৌধুরী উখিয়া উপজেলা বিএনপির নেতা।
এর আগে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের সোনারপাড়া পয়েন্ট এলাকায় মাছ লুটের একটি ঘটনার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ীর দাবি, আরফাত চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট তার মালিকানাধীন ১২২ বস্তা মাছ জোরপূর্বক নিয়ে যায়।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপে সিন্ডিকেটটি ১০০ বস্তা মাছ ফেরত দিতে বাধ্য হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, মাছ ফেরতের বিনিময়ে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ‘লেবার খরচ’ বাবদ ২ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এখনো বাকি ২২ বস্তা মাছ ফেরত দেয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আরও অভিযোগ করেন, মাছ ফেরতের দাবি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এমনকি ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর আরফাত চৌধুরী ও তার সহযোগীরা তাকে জিম্মি করে নিজেদের পক্ষে বক্তব্য দিতে বাধ্য করেছেন।
এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে কক্সবাজার ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।
সংগঠনের নেতারা এক বিবৃতিতে বলেন, সত্য ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিককে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ। অবিলম্বে এ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী। এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন সংগঠনের নেতারা।
