এসব লক্ষ্যে এগোতে নতুন করে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর জাতীয়ভিত্তিক ঐক্য দরকার। ঐক্য বা মোর্চা হতে হবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বই ও চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের মূল্যবোধকে ধারণ করে এবং ওপরের তিন ঐতিহাসিক অধ্যায়ে যুক্ত শক্তিগুলোকে পুনর্গঠিত করে।
একাত্তর, নব্বই ও চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের মৌলিক ঐকমত্যের জায়গা হিসেবে ওপরের লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে আরও অনেক লক্ষ্য যুক্ত করা যায়। গত ৫৫ বছরে তিনটি বড় রাজনৈতিক প্রচেষ্টার পরও কোনো প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধারা এই জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে সফল হতে পারেনি। কিন্তু সেসব লক্ষ্য থেকে বাংলাদেশ যে বিচ্যুত হতে পারছে না, তা–ও মৌলিক বাস্তবতা।
এসব লক্ষ্য সমাজ ও রাষ্ট্রে বাস্তবায়ন করতে হলে রাজনৈতিক পরিসরের পুনর্বিন্যাস দরকার। এ কাজ পুরোনো নেতৃত্ব বা সমকালীন নাগরিক সমাজ পারবে বলে মনে হয় না। ২০২৪ সালে সুযোগ পেয়েও তাঁরা পারেননি। সশস্ত্র এবং নিরস্ত্র উভয় ধরনের গণ–অভ্যুত্থানের একাধিক অভিজ্ঞতার পরও তাঁরা অভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের গঠনমূলক কাজে সংঘবদ্ধ করতে পারেননি, দিকনির্দেশনা দিতে পারেননি।
ভিয়েতনাম, কিউবা ইত্যাদি দেশ এ রকম লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছিল। কারণ, তাদের ‘মুক্তি’র যুদ্ধটা ছিল পরিকল্পিত এবং বিজয়ী যোদ্ধাদলই রাজনীতির নেতৃত্ব নিয়েছিল। ১৯৭১, ১৯৯০, ২০২৪–এ বাংলার মানুষ লড়ছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। তারা অকুতোভয় ছিল। তাদের সৎ ও ন্যায্য আকাঙ্ক্ষা ছিল। কিন্তু সেই সৎ ও ন্যায্য আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে অনুবাদের জন্য আমলাতন্ত্র ও কায়েমি স্বার্থবাদী গ্রাম-শহরের গোষ্ঠীগুলোকে নিষ্ক্রিয় করতে পারেননি যোদ্ধারা। পুরোনো রাজনীতি একাত্তর, নব্বই, চব্বিশ—তিন যুদ্ধেই যোদ্ধাদলকে ভাড়াটে সৈনিকের মতো যুদ্ধ শেষে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। দেশ গঠনে অংশ নিতে দেয়নি। আগামীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তাই রাজনৈতিক পুনর্ভাবনা জরুরি এবং এখনই তার সময়। কেবল এ পথেই আজ ও আগামীকালের মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়ী হতে সক্ষম এবং সেটা জরুরি।