প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১, ২০২৬, ৬:১০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১, ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ
মেরিন ড্রাইভে এসিড ছুঁড়ে কার যাত্রীর নগদ টাকা ছিনতাই, এসিডদ্বগ্ধ হাসপাতালে
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর এলাকায় দিনদুপুরে এসিড ছুঁড়ে কার যাত্রীর কাছ থেকে নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে মোটরসাইকেল আরোহী একদল দূর্বৃত্ত। এ ঘটনায় এসিডদ্বগ্ধ কার যাত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তবে পুলিশের দাবি, এসিড নয়; চেতনানাশক জাতীয় স্প্রে ছুড়ে দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
সোমবার বিকাল আনুমানিক ৩ টার দিকে মেরিন ড্রাইভের রামু উপজেলার দরিয়ানগর প্যারাসেইলিং পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনায় এসিডদ্বগ্ধ মো. রফিক (৪৫) টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরী পাড়ার হোসেন আলীর ছেলে। তিনি পেশায় ভাড়ায় চালিত যাত্রীবাহী কারের চালক।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. রফিক বলেন, দুপুরে টেকনাফ থেকে তার ছোট ভাই মো. জাহিদের যাত্রীবাহী কার যোগে ছেলের জন্য ইজিবাইক কেনার জন্য কক্সবাজারের উদ্দ্যেশে রওনা দেন। মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছলে চারটি মোটরসাইকেল যোগে ৮ জন দুর্বৃত্ত আগে-পিছে অবস্থান নিয়ে গাড়ীটি থামায়। এসময় মোটরসাইকেল থেকে ৪ দুর্বৃত্ত নেমে ছোরার ভয় দেখিয়ে তাকে বেরিয়ে আসার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে তার বাম পায়ের উরুতে স্প্রে জাতীয় বোতল থেকে তরল দাহ্য পদার্থ ছুড়ে।
“ এতে আমার পা ও হাতে জ্বালাতন শুরু হয়। এসময় ছটফটের এক পর্যায়ে দূর্বৃত্তরা প্যান্টের পকেট থেকে নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে যায়। দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া দাহ্য পদার্থে লেগে আমার ব্যবহৃত মোবাইল ও পরিহিত প্যান্টের কিছু অংশ পুড়ে গেছে। “
ভুক্তভোগী এ ব্যক্তি বলেন, ঘটনার পর কারটির চালক ও অন্যযাত্রীরা তাকে দ্বগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সেখানে ভর্তি রাখা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ছিনতাইয়ের শিকার কারটির চালক মো. জাহিদ বলেন, ভাইপোর জন্য ইজিবাইক কিনতে তার কার যোগে কক্সবাজার আসছিল ভাই মো. রফিক। দরিয়ানগর এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী একদল দুর্বৃত্ত গাড়ীটি থামিয়ে তার ভাইকে লক্ষ্য করে এসিড ছুঁড়ে মারে। পরে তার ভাইয়ের সাথে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার পর দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
ছিনতাইয়ের শিকার গাড়ীর চালক জাহিদ ও চিকিৎসাধীন রফিক অভিযোগ করে জানায়, “ কক্সবাজার সদরে বড়ছড়া এলাকার জনৈক মো. ইমন নামের এক যুবকের সঙ্গে রফিকের বন্ধুত্ব ছিল। মেরিন ড্রাইভের কক্সবাজার-টেকনাফ রুটে ভাড়ায় চালিত কারের চালক হওয়ার সুবাধে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে। রফিক টেকনাফে অবস্থানকালে ইমনের সঙ্গে সাক্ষাত ও আলাপ হয়েছিল। নগদ টাকা সাথে নিয়ে রফিক ছেলের জন্য ইজিবাইক কিনতে কক্সবাজার আসার তথ্য ইমন জানত।
রফিককে বহনকারি কারটির আগেই ইমনের চালিত কারটি যাত্রী নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দ্যেশে রওনা দেয়। পরে রফিক সহ অন্যযাত্রীদের নিয়ে জাহিদের কারটি টেকনাফ থেকে ছাড়ে। কিন্তু পরে ছাড়লেও জাহিদের চালিত কারটি পথিমধ্যে ইমনের কারটিকে ২/৩ বার অতিক্রম করে। পরে রেজুখাল ব্রিজ পার হবার পর ইমনের গাড়ীটি কম গতিতে চলতে থাকলে অতিক্রম করে জাহিদের কারটি সামনে চলতে থাকতে। এক পর্যায়ে ইমনের বাড়ীর কাছাকাছি দরিয়ানগর এলাকায় পৌঁছলে ছিনতাইয়ের এ ঘটনা ঘটেছে।
এনিয়ে ভুক্তভোগী ব্যক্তি ও কার চালক ভাই ঘটনার জন্য ইমন দায়ী বলে দাবি করেছেন।
এব্যাপারে রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে শোনার পর হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় দ্বগ্ধ হয়ে আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনাটি ছিনতাই নাকি অন্য কোন কারণে ঘটেছে এব্যাপারে পুলিশ খোঁজ খবর নিচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ঘটনায় দ্বগ্ধ ব্যক্তি এসিড নাকি চেতনানাশক স্প্রে জাতীয় কোন দাহ্য পদার্থ ছুঁড়া হয়েছে তাও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তবে ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানান, মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত