নিহারেন্দু চক্রবর্তী, (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
নীল আকাশ চিরে হাওরবেষ্টিত জনপদে অবতরণ করল একটি হেলিকপ্টার। আর সেই হেলিকপ্টার থেকেই নামলেন লাল শেরওয়ানিতে সজ্জিত নবদম্পতি। মেয়ের স্বপ্ন পূরণে হেলিকপ্টারে করে
জামাই বরন করলেন মেয়ের বাবা মুজিবর রহমান।
নতুন জামাই সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী ইমন মিয়া (২৪)।সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ঢাকার একটি হেলিপ্যাড থেকে আকাশপথে রওনা দেন ইমন মিয়া ও তার স্ত্রী জান্নাত বেগম (১৯)। মাত্র ২৫ মিনিটে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের কাঠালকান্দি গ্রামে পৌঁছান। হেলিকপ্টারটি চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজ মাঠে অবতরণ করে। পরে সেখান থেকে মোটরসাইকেলে করে নবদম্পতি নিজ বাড়িতে যান।

হেলিকপ্টার অবতরণের খবরে কলেজ মাঠে মুহূর্তেই উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ—সবার মধ্যেই দেখা যায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস। অনেকে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ ও সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পরে বর ও কনে পক্ষের পরিবারের সদস্যরা ফুল দিয়ে নবদম্পতিকে বরণ করে নেন।
ইমন মিয়া কাঠালকান্দি গ্রামের বিল্লাল মিয়ার ছেলে। তারা বাবা-ছেলে দুজনেই সাউথ আফ্রিকায় প্রবাসে থাকেন। দুই ভাইবোনের মধ্যে ইমন বড়। কনে জান্নাত বেগম একই গ্রামের মজিবুর রহমানের মেয়ে।
ইমন মিয়া বলেন, “আমার স্ত্রীর শখ ছিলো হেলিকপ্টারে চড়ে শ্বশুরবাড়িতে শুভাগমণ করবে। আল্লাহর রহমতে আজ দুই পরিবারের সম্মতিতে সেই সখ পূরণ হলো।”
কনের বাবা মজিবুর রহমান জানান, ছয় মাস আগে ঢাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে তাঁদের বিয়ে হয়। মেয়ের ইচ্ছা পূরণ করতেই দুই পরিবার মিলে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার বাসা থেকে গ্রামে নিয়ে আসার এই আয়োজন করা হয়। এতে আমাদের দুই পরিবারের সদস্যরা আনন্দিত।
গ্রামের অনেকেই জীবনে প্রথমবার এত কাছ থেকে হেলিকপ্টার দেখার সুযোগ পান। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।