মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুরের পর পাবলিক টয়লেট ঘোষণা

তাইয়েব ইবনে ফারুকী,ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে সেটিকে পাবলিক টয়লেট হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মহানগরীর গাঙ্গিনারপাড় শিববাড়ি এলাকায় অবস্থিত ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সোমবার (তারিখ উল্লেখ নেই) বেলা সোয়া ১১টার দিকে জাতীয় বিপ্লবী মঞ্চের এক নেতার নেতৃত্বে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরে পুলিশ এসে ভাঙচুরকারীদের সরিয়ে দেয়। এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি ওই কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানান, সোমবার বেলা ১১টার পর ময়মনসিংহ নগরের গাঙ্গিনারপাড় শিববাড়ি এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে যান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ও জাতীয় বিপ্লবী মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মো. আয়াস। এ সময় তাঁর সঙ্গে শ্রমিকসহ চারজন ব্যক্তি ছিলেন। শ্রমিকেরা কলাপসিবল গেটের পাশের একটি জানালা ভেঙে ফেলেন এবং অপর জানালার কিছু অংশ ভাঙচুর করেন।
একই সময়ে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও আওয়ামী লীগের কর্মসূচির একটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়। এ ছাড়া কার্যালয়ের সামনে একটি টায়ারে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টায়ারের আগুন নিভিয়ে ভাঙচুর বন্ধ করে। একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজনের তোপের মুখে পড়েন আল নূর।
কার্যালয়টি ভাঙার কারণ হিসেবে আল নূর মো. আয়াস বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দোসররা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই রেদোয়ান হোসেনকে প্রকাশ্যে হত্যা করেছে। এখন তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। আমাদের যেসব ভাইয়ের রক্তে এই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হয়েছে, সেখানে ফ্যাসিবাদের কোনো জায়গা হবে না। একই সঙ্গে কার্যালয়টি অফিশিয়ালি টয়লেট হিসেবে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিলাম।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এই নেতা আরও বলেন, ‘যত দিন পর্যন্ত বাংলার মাটিতে খুনিদের বিচার না হবে, তত দিন পর্যন্ত এই খুনিদের কোনো কার্যক্রম করতে দেওয়া যাবে না। আমরা খুনিদের মারতে চাই না, আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাই। প্রশাসন অবশ্যই যেন সে ব্যবস্থা করে।’
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভাঙচুর বা নাশকতামূলক কোনো কার্যক্রমে প্রশ্রয় দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি জানান, ‘আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুরের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠানো হয় এবং ভাঙচুর থেকে বিরত করা হয়। যারা ভাঙচুর করেছে, তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সর্বাধিক পঠিত