বর্তমানে ইসলামাবাদে চলমান আলোচনায় ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং নিষেধাজ্ঞার অবসান নিয়ে বিতর্ক চলছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত পুরোপুরি ধ্বংস করুক অথবা অন্য দেশে পাঠিয়ে দিক। কিন্তু এই ইউরেনিয়াম কোথায় পাঠানো হবে তুরস্ক না ফ্রান্সে তা নিয়ে বড় ধরনের মতভেদ রয়েছে।
এ ছাড়া ইরান চায় তাদের ওপর থেকে স্থায়ীভাবে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক এবং ভবিষ্যতে আর আক্রমণ করা হবে না এমন একটি নিরাপত্তা গ্যারান্টি দেওয়া হোক।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্পের প্রধান আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা দিয়ে এই জটিল কূটনৈতিক জট খোলা সম্ভব নয়। একজন ইউরোপীয় কূটনীতিকের মতে, ‘আমেরিকানরা ভাবছে পাঁচ পৃষ্ঠার একটি নথিতে তিন-চারটি পয়েন্টে একমত হওয়া মানেই সব শেষ, কিন্তু পরমাণু ইস্যুর প্রতিটি ধারা ডজনখানেক নতুন বিবাদের জন্ম দেয়।’
এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভালো চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধহস্ত এবং তিনি কেবল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি মেনে চলা চুক্তিই গ্রহণ করবেন। তবে ইউরোপীয়রা মনে করেন, তড়িঘড়ি করা চুক্তিতে আইএইএ-এর প্রবেশাধিকার এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ না থাকলে তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে।
অন্যদিকে ইরান এই যুদ্ধে অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ সহ্য করার ক্ষমতা দেখিয়েছে, যা তাদের দরকষাকষির অবস্থানকে আরও শক্ত করেছে। তেহরানের প্রধান দাবি হলো অ-আগ্রাসন চুক্তি বা নিরাপত্তা নিশ্চয়তা। তবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলো চায় ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচিও এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হোক।
ইরান তাদের মিসাইল সক্ষমতাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য মনে করে, যা নিয়ে কোনো ছাড় দিতে তারা নারাজ। সব মিলিয়ে একটি ভাসা-ভাসা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও পরবর্তী ধাপের শত শত কারিগরি জটিলতা মেটাতে গিয়ে আলোচনা আবারও মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।
সূত্র: রয়টার্স