যুদ্ধ শেষ করতে আমাদের চীনের প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কোনো ধরনের মধ্যস্থতা বা সাহায্যের প্রয়োজন নেই যুক্তরাষ্ট্রের, দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মঙ্গলবার (১২ মে) বেইজিংয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্পের মতে, ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন একাই সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম এবং ‘শান্তিপূর্ণভাবে অথবা অন্য কোনো উপায়ে’ যুক্তরাষ্ট্র এই লড়াইয়ে জয়লাভ করবে। যদিও গত এক মাস ধরে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবে শত্রুতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়নি।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত মাসে মার্কিন ও চীনা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একটি বিষয়ে একমত হয়েছিলেন যে, কোনো দেশেরই আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে টোল আদায় করার অধিকার থাকা উচিত নয়।
মূলত বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে এই কৌশলগত জলপথ নিয়ে দুই পরাশক্তির ঐকমত্যের বিষয়টি সামনে এনে বেইজিংয়ের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির চেষ্টা করেছে হোয়াইট হাউস। উল্লেখ্য, চীন ইরানের অন্যতম প্রধান মিত্র এবং তাদের জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানায়নি।
এদিকে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হতো। তবে ইরান বর্তমানে এই জলপথের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান পারস্য উপসাগর থেকে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাক ও পাকিস্তানের সঙ্গে বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী ও স্বাভাবিক হওয়ার ভিত্তি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছিল, ট্রাম্প হয়তো বেইজিংকে ব্যবহার করে তেহরানকে একটি চুক্তিতে আসতে প্রভাবিত করবেন। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে এসেছে। শান্তি চুক্তির শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করুক এবং হরমুজ প্রণালি থেকে নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে নিক।
অন্যদিকে ইরান পাল্টা দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। সোমবার ট্রাম্প ইরানের এই দাবিগুলোকে ‘আবর্জনা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সূত্র: রয়টার্স