প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ৯, ২০২৬, ১০:২২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ২৭, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
যে কারণে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান
চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখ থেকে ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যখন একটি ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা তীব্রতর হচ্ছে, ঠিক তখনই এক অপ্রত্যাশিত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সামনে এসেছে পাকিস্তান। ওয়াশিংটন এবং তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পর্দার আড়ালে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে ইরানের প্রতিবেশী দেশটি।
সম্প্রতি পাকিস্তান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি ১৫-দফা প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ায় তুরস্ক ও মিশরও পর্দার আড়াল থেকে সহায়তা করছে। যদিও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পরোক্ষ আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে, তবে তারা নিজস্ব কিছু প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মধ্যস্থতায় কেন পাকিস্তান?
সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতগুলোতে ওমান বা কাতার মধ্যস্থতা করে থাকে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা সরাসরি কোনো না কোনোভাবে জড়িত হয়ে পড়ায় পাকিস্তান এই দায়িত্ব নিয়েছে। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে।
কারণ ওয়াশিংটন এবং তেহরান—উভয় পক্ষের সঙ্গেই পাকিস্তানের কার্যকরী সম্পর্ক রয়েছে। ইরানের প্রতিবেশী হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে গভীর সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকায় পাকিস্তান এই বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে। অবশ্য এর আগেও দুই দেশের আঞ্চলিক ঝামেলা নিরসনে ইসলামাবাদকে ভূমিকা রাখতে দেখা গেছে। ১৯৭২ সালে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক স্থাপন এবং ১৯৮৮ সালে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সেনা প্রত্যাহারেও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
পাকিস্তানের নিজস্ব স্বার্থ
এই যুদ্ধ বন্ধ হওয়া পাকিস্তানের জন্য কেবল সৌজন্য নয়, বরং অস্তিত্বের লড়াই। এর অন্যতম কারণ যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় পাকিস্তানে জ্বালানি তেলের মূল্য প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার কারণে পাকিস্তানেও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরানে হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের করাচিসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা এবং দেশজুড়ে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ২২ জন নিহত ও ১২০ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রায় ৫০ লাখ পাকিস্তানির পাঠানো রেমিট্যান্স এবং আরব দেশগুলো থেকে আসা তেল-গ্যাসের ওপর দেশটির অর্থনীতি সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।
বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্ভাবনা
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ-এর মতে, পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার কারণেই হয়তো বড় ধরনের হামলা থেকে এখনো দুই পক্ষ কিছুটা বিরত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কূটনৈতিক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে আপাতত ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় হামলার হুমকি স্থগিত রেখেছেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ যদি সফল হয়, তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতেও ইসলামাবাদের অবস্থানকে অনেক শক্তিশালী করবে।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরাইল
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত