বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬

রাজস্থলীর বাঙ্গালহালিয়ায় Corlia প্রকল্পের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে Corlia Project-এর উদ্যোগে ও রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদোমং মারমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩২০নং কাকড়াছড়ি মৌজা হেডম্যান প্রতিনিধি, রাজস্থলী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুমন খান, অর্থ সম্পাদক নুসরাত নিশু, Corlia Project-এর উপজেলা কো-অর্ডিনেটর লেলিনা চাকমা, টেকনিক্যাল সাপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার নিতু প্রসাদ চাকমা এবং ইউনিয়নের প্রকল্প ফ্যাসিলিটেটর ও পাড়া কারবারি মাসুইইচিং মারমা। এছাড়াও বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য-সদস্যা, পাড়া কারবারি, সমাজসেবক, ২নং ও ৮নং ওয়ার্ডের উপকারভোগী মহিলা দলের সভানেত্রী ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, ২০২৫ সাল থেকে Corlia প্রকল্পটি বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২নং ও ৮নং ওয়ার্ডে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নারী সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে পাড়া ভিত্তিক মহিলা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রকল্পটি কানাডা সরকারের অর্থায়নে এবং রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে পরিচালিত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দরিদ্র পরিবারের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল জীবিকা সৃষ্টি, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং নারী ক্ষমতায়ন জোরদার করা। নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলা এবং তাদের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাও প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।
উপজেলা প্রকল্প কো-অর্ডিনেটর তার বক্তব্যে জানান, এই প্রকল্প মূলত দরিদ্র, অসহায় ও নিঃস্ব পরিবারের নারী সদস্যদের নিয়ে কাজ করছে। ৮নং ওয়ার্ডের কুটুরিয়া পাড়ায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুবিধার্থে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি গবাদিপশু পালনের জন্য প্রতিটি নারী সদস্যকে এককালীন ৪,৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২নং ওয়ার্ডের দরিদ্র নারী সদস্যদের নিয়ে কমিটি গঠন করে ছাগল পালন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৭ সাল পর্যন্ত কানাডা সরকারের অর্থায়নে ও জেলা পরিষদের যৌথ বাস্তবায়নে প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান থাকবে।
ভবিষ্যতে প্রকল্পের পরিধি বৃদ্ধি পেলে ইউনিয়নের অন্যান্য পাড়ায় বসবাসরত প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া দরিদ্র পরিবারগুলোকেও পর্যায়ক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা

সর্বাধিক পঠিত