প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ২১, ২০২৬, ১১:৫৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ২১, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
রামুতে বসত ঘর থেকে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ বিএনপি নেতার স্ত্রী ও এক রোহিঙ্গা আটক
রামু প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের রামুতে বসত ঘর থেকে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ বিএনপি নেতার স্ত্রী ও এক রোহিঙ্গাকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ( ডিবি )।
বুধবার (২০ মে) মধ্যরাতে রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের হাজীরপাড়ায় এ অভিযান চালানো হয় বলে জানান, রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া।
আটকরা হলেন- রামু কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের হাজীরপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের স্ত্রী ছালেহা বেগম (৪৫) এবং উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী এলাকার ১৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. হাসিম ওরফে ওসমান (৩৫)।
আটক ছালেহা বেগমের স্বামী নজরুল ইসলাম বিএনপির কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি।
মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বুধবার মধ্যরাতে রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের হাজীরপাড়া এলাকায় জনৈক ব্যক্তির বসত ঘরে মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে আসা মাদকের বড় একটি চালান মজুদের খবর পায় ডিবি পুলিশ। পরে রামু থানা পুলিশের সহযোগিতায় ডিবি পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান চালায়। এতে বসত ঘরটি ঘিরে ফেললে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহজনক ৪/৫ জন লোক কৌশলে পালানোর চেষ্টা চালায়। এসময় ধাওয়া দিয়ে এক নারীসহ দুইজনকে আটক করতে সক্ষম হলেও অন্যরা পালিয়ে যায়।
“ বসত ঘরটি তল্লাশী চালিয়ে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় পাওয়া যায় ৪০ হাজার ইয়াবা। আটক নারীর বসত ঘর থেকে আটক অপর আসামি রোহিঙ্গা নাগরিক। “
আটকদের প্রাথমিক স্বীকারোক্তির বরাতে ওসি বলেন, “ আটক রোহিঙ্গা মো. হাসিম ওরফে ওসমান মূলত সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে নজরুল ইসলামের বাড়ীতে মজুদ রাখত। পরে সুবিধাজনক পরিস্থিতিতে ইয়াবার ওইসব চালান নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাচার করত। সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাপাচারের সাথে জড়িত। “
তবে আটক ছালেহা বেগমের স্বামী নজরুল ইসলাম বিএনপি নেতা কিনা পুলিশ মন্তব্য করতে রাজী না হলেও কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন কমিটি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মামুন সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “ নজরুল ইসলাম বিএনপির ইউনিয়ন কমিটির বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। বসত ঘর থেকে তার স্ত্রী ইয়াবাসহ পুলিশের কাছে আটক হওয়ার বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে জেনেছেন। “
তবে নজরুল ইসলাম ইসলাম ইয়াবা কারবার ও সীমান্তে চোরাচালানীর সাথে জড়িত কিনা তা অবগত নন বলে জানান, বিএনপির স্থানীয় এ নেতা।
পুলিশ ও স্থানীয়দের একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিরা সীমান্তভিত্তিক চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বলে নানা তথ্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার সীমান্ত ঘিরে গড়ে ওঠা ইয়াবা ও চোরাচালান নেটওয়ার্কে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক পরিচয়ধারী সুবিধাভোগী এবং সীমান্তভিত্তিক চোরাকারবারিদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ একটি নেটওয়ার্ক। যার নেতৃত্বে রয়েছে কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম সহ আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।
আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে ডিবি পুলিশের এক সদস্য বাদী হয়ে রামু থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান, ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত