শুক্রবার, জানুয়ারি ২৩, ২০২৬

রামুতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের দু’পক্ষের জমি বিরোধে মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ৩

রামু প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের রামুতে সদ্ধর্মোদয় বৌদ্ধ বিহার ও ভাবনা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯ টার দিকে উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের পূর্ব রাজারকুল বড়ুয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, মন্দিরের জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের জেরে সমদেশ বড়ুয়া লুলুর নের্তৃত্বে এ হামলা চালানো হয়।
এর আগে মন্দিরে হামলার ভিডিও বুদ্ধ ভিক্ষু প্রজ্ঞা বিনয় থের ফেসবুক লাইভে প্রচার করলে তাৎক্ষণিক রামু থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন,সেনাবাহিনী ও বিজিবি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ-সময় পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ৩ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মৃত উপেন্দ্র বড়ুয়ার ছেলে সমদেশ বড়ুয়া লুলু, তার ছেলে রনি বড়ুয়া, এবং মৃত সুবাস বড়ুয়ার ছেলে রনি বড়ুয়া।
পরে এ ঘটনায় প্রজ্ঞা বিনয় ভিক্ষু রামু থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১৫–২০ জনকে আসামি করে এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন ছাড়া অভিযুক্ত হিসেবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে সমদেশ বড়ুয়ার মেয়ে মুন্নি বড়ুয়া ও মৃত উপেন্দ্র বড়ুয়ার ছেলে সমিরন বড়ুয়া।
এজাহারে সূত্রে জানা যায় , আদালতের স্থিতি বজায় রাখার আদেশ অমান্য করে আসামিরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে বিহারে প্রবেশ করে ভিক্ষুদের মারধর, বিবস্ত্র করার চেষ্টা, ২টি বুদ্ধমূর্তি, নির্মাণাধীন বিহার, চেয়ার-টেবিল ও ডেকোরেশন সামগ্রী ভাঙচুর করে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে।
এছাড়া দানবক্স থেকে ১৫ হাজার টাকা লুটের অভিযোগও আনা হয়েছে। হামলায় বিহারের পরিচালক প্রজ্ঞা তাপস ভিক্ষু আহত হন এবং তাকে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
রামু থানার পরিদর্শক ( তদন্ত) মো. ফরিদ বলেন, “জমি বিরোধের জেরে হামলার ঘটনায় ৫ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা রুজু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোনো ধরনের উস্কানি বা অপপ্রচার যেন ছড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়ে সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত