রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শালিক “মুনু”, মানুষ আর পাখির ব্যতিক্রমী ভালোবাসা

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ :
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা হোয়াইক্যং উনছিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২২ এ দেখা মিলেছে মানুষ ও প্রাণীর এক ব্যতিক্রমী ভালোবাসার গল্প। একটি রোহিঙ্গা পরিবার অসহায় অবস্থায় একটি ছোট্ট শালিকের ছানা কুড়িয়ে এনে লালন-পালন করে বড় করেছে। পরিবারের সদস্যরা আদর করে পাখিটির নাম রেখেছেন “মুনু”।
পরিবারটির সদস্যরা জানান, কয়েক মাস আগে দুর্বল ও অসহায় অবস্থায় শালিকের ছানাটিকে খুঁজে পান তারা। এরপর নিয়মিত খাবার, যত্ন ও স্নেহে ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠে ছোট্ট পাখিটি।
বর্তমানে শালিক “মুনু” পুরোপুরি বড় হলেও তাকে খাঁচায় বন্দি রাখা হয় না। প্রতিদিন উন্মুক্তভাবে উড়ে আশপাশে ঘুরে বেড়ালেও কিছুক্ষণ পর আবার নিজ থেকেই পরিবারের ঘরে ফিরে আসে।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, পরিবারের সদস্যরা “মুনু” বলে ডাক দিলেই শালিকটি উড়ে এসে তাদের কাঁধে কিংবা হাতে বসে পড়ে। পরিবারের শিশুদের সঙ্গেও খেলাধুলা করতে দেখা যায় পাখিটিকে।
স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, মানুষ ও প্রাণীর মাঝে এমন মায়া-মমতার সম্পর্ক খুব কমই দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া “মুনু”-র ভিডিও ইতোমধ্যে সবার নজর কেড়েছে।
মানুষের ভালোবাসা ও যত্নে একটি ছোট্ট পাখিও হয়ে উঠতে পারে পরিবারের আপন সদস্য— উখিয়ার শালিক “মুনু” যেন তারই এক জীবন্ত উদাহরণ।