প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ২৭, ২০২৬, ৯:১৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ২৫, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
লামায় রোহিঙ্গাদের অবৈধ বসতি বৃদ্ধিতে উদ্বেগ
লামা ( বান্দরবান ) প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজার জেলার উখিয়া, টেকনাফ, রামু, ঈদগাঁও, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া ও কক্সবাজার সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে জমি ক্রয়, বাড়িঘর নির্মাণ এবং স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। একই অভিযোগ উঠেছে বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি, আলীকদম ও লামা উপজেলাতেও।
স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন কৌশলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করে দেশের অভ্যন্তরে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছে। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা, সামাজিক ভারসাম্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু রোহিঙ্গা বাংলাদেশি নারীকে বিয়ে করে জালিয়াতির মাধ্যমে এনআইডি তৈরির সুযোগ নিচ্ছে। আবার বিদেশে অবস্থানরত স্বামী বা বাবার পরিচয় ব্যবহার করেও অনেকে নাগরিকত্বের কাগজপত্র সংগ্রহ করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এছাড়াও চট্টগ্রাম, ঢাকা, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ঠিকানা ব্যবহার করে অনেকেই কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলে বসবাস করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে, যারা অর্থের বিনিময়ে অবৈধ এনআইডি ও কাগজপত্র তৈরি এবং জমি লেনদেনে সহায়তা করছে।
এ পরিস্থিতিতে কক্সবাজার ও বান্দরবানের সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) দ্রুত তদন্তের আওতায় এনে সরকারি খাস ও পিএফ জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং অবৈধভাবে তৈরি হওয়া এনআইডি শনাক্ত করে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি জড়িত দালালচক্র ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, “মানবিক কারণে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু সেই সুযোগ নিয়ে কেউ যদি অবৈধভাবে এনআইডি সংগ্রহ, জমি দখল কিংবা স্থায়ী বসতি গড়ে তোলে, তাহলে তা দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।”
এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কার্যকর অভিযান এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত