কক্সবাজার শহরজুড়ে আবারও তীব্র যানজটের কবলে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগছে। কদিন আগেই জেলা প্রশাসনের সভাপতিত্বে যানজট নিরসন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয় নাগরিকরা বলছেন, সভায় কাঁচের জগে পরিবেশবান্ধব পানি, কমলা ও স্যান্ডউইচ পরিবেশন হলেও বাস্তব পরিবর্তনের কোনো ছাপ নেই।
শহরের মূল সড়কে এখনো অবৈধ টমটম ও মিশুকের দাপট, ফুটপাত দখল করে বসেছে কাঁচা সবজি ও মাছ বিক্রেতারা। বিশেষ করে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ মিশুক গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক দৃশ্য।
নাগরিকদের অভিযোগ, “জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় যারা বসেন, তারাও জানেন এই যানজটের মূল কারণ। কিন্তু কেউ পদক্ষেপ নিতে চান না। কারণ, চাঁদাবাজরা চাঁদা তুলতে জানে তাদের কেউ থামাতে পারে না।”
ফুটপাত ও সড়কের ওপর অবৈধ দোকান ও বাজার বসানোর পেছনে পৌরসভার কিছু ব্যক্তি ও চাঁদাবাজ চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শহরের খুরুশকুল রাস্তার মাথায় ইজারাবিহীন কাঁচা বাজার, টমটম লাইসেন্স বাণিজ্য, আর প্রতিদিনের অব্যবস্থাপনাই এখন যানজটের স্থায়ী কারণ।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শহরের মানুষের সময়ের কোনো মূল্য নেই। টমটম লাইসেন্স যেমন ছিনিয়ে নেওয়া হয়, তেমনি ছিনতাই হচ্ছে নাগরিকের মূল্যবান সময়।”
কক্সবাজারের মতো পর্যটননির্ভর শহরে নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অবৈধ যান নিয়ন্ত্রণ ও ফুটপাত মুক্তকরণ এখন সময়ের দাবি। জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।