বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নে আলোচনায় খাগড়াছড়ির শাহেনা আক্তার

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
সংরক্ষিত নারী আসনে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে সংসদ সদস্য (এমপি) পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলাদল, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহেনা আক্তার।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং সংগঠনকে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে অবদান রাখার কারণে দলীয় মনোনয়নের আলোচনায় তার নাম গুরুত্ব পাচ্ছে।
শাহেনা আক্তারের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৮ সালে, যখন তিনি নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। সে সময় খাগড়াছড়ি অভিমুখে বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার লং মার্চ চলাকালে তার এলাকায় নারীদের ব্যাপক উপস্থিতি নজরে আসে। ওই সময় খালেদা জিয়ার সান্নিধ্য লাভ তার রাজনৈতিক জীবনের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে ২০০০ সালে কলেজ কমিটির মাধ্যমে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। ২০০৫ সালে মাটিরাঙ্গা উপজেলা ও পৌর মহিলাদলের আহ্বায়ক এবং ২০০৬ সালে খাগড়াছড়িতে বিএনপির সমাবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একই বছরে ২৮ অক্টোবর মাটিরাঙ্গায় দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে হামলার শিকার হন বলেও জানা গেছে।
২০০৭ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের (১/১১) পর বিএনপির নেতা ওয়াদুদ ভূইয়ার নির্দেশনায় তিনি পুনরায় সংগঠনকে সক্রিয় করতে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে জেলা মহিলাদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি, মাটিরাঙ্গা পৌর মহিলাদলের সভাপতি এবং বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও শাহেনা আক্তার দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় ছিলেন। এমনকি স্থানীয়ভাবে বিএনপির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়লে ঝুঁকি নিয়ে দলীয় অফিস পুনরায় চালু করতেও ভূমিকা রাখেন তিনি।
শিক্ষাগত দিক থেকেও তিনি এগিয়ে রয়েছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর আইন বিষয়ে এলএলবি ও এলএলএম (হিউম্যান রাইটস) ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি খাগড়াছড়ি জজ কোর্টে শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন।
এছাড়া সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি খাগড়াছড়ি রেড ক্রিসেন্টের আজীবন সদস্য এবং মাটিরাঙ্গা যুব রেড ক্রিসেন্টের সাবেক যুবপ্রধান। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত “পার্বত্য নারী সংহতি” সংগঠনের মাধ্যমে অসহায় নারীদের আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং, প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছেন।
তিন পার্বত্য জেলায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর একটি প্রকল্পে কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট এক্সপার্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের নারীদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে শাহেনা আক্তারের। সুযোগ পেলে তিনি পার্বত্য এলাকার নারীদের উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখতে চান।
দলীয় সূত্র জানায়, চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণার আগ পর্যন্ত একাধিক প্রার্থীর নাম আলোচনায় থাকলেও শাহেনা আক্তারকে একজন শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত