প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১৮, ২০২৬, ৮:১৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ১৪, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
সকালে নাস্তা না খেলে কী হয় শরীরে? নতুন গবেষণায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
সকালের নাস্তা খাওয়া নিয়ে অনেকেরই গড়িমসি। আবার কেউ অনেক দেরি করে নাস্তা খায়।সকালের নাস্তা না খাওয়ার অভ্যাস কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকতে পারে বলে দাবি করছেন গবেষকরা।
সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, সকালে খাবার না খেলে টাইপ–২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, বয়সজনিত স্নায়বিক অবক্ষয়, প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ এবং কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমতে পারে।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত না খাওয়ার অভ্যাস রক্তচাপ, বিশ্রামকালীন হৃদস্পন্দন এবং অন্যান্য কার্ডিওভাসকুলার সূচকে উন্নতি আনতে পারে বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, শুধু নাস্তা খাওয়া বা না খাওয়া—কোনোটিই বিপাকক্রিয়ায় (মেটাবলিজম) বড় ধরনের পরিবর্তন আনে না বা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ক্যালরি পোড়ানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নাস্তার ক্যালরি কমানো বিশেষ করে অতিরিক্ত ওজন বা স্থুল ব্যক্তিদের দৈনিক শক্তির ভারসাম্য উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে।
গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় না খাওয়ার ফলে শরীর কিটোজেনিক অবস্থায় প্রবেশ করতে পারে, যেখানে জমে থাকা চর্বি শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং ফ্যাট বার্নিং প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়।
এছাড়া উপবাসের সময় শরীরে অটোফ্যাজি নামের একটি কোষীয় প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়, যা মৃত ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষের বর্জ্য পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এ প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে বয়সজনিত সমস্যা ও নানা রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়।
গবেষণায় আরও বলা হয়, মাঝে মাঝে খাবার না খাওয়ার ফলে অটোফ্যাজির কার্যক্রম বৃদ্ধি পেতে পারে, যা কোষীয় পরিষ্কার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে।
অনেক অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, সকালে নাস্তা না খেলে তারা বেশি সতর্কতা, মনোযোগ এবং মানসিক স্বচ্ছতা অনুভব করেন, যা দৈনন্দিন কাজে ফোকাস বাড়াতে সাহায্য করে।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং নিয়ে বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ফাস্টিং গ্লুকোজ, ইনসুলিন এবং লেপটিনের মাত্রা উন্নত করতে পারে এবং শরীরের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসকের পরামর্শে নাস্তা বাদ দেওয়া কিছু রোগীর ইনসুলিন নির্ভরতা কমাতেও সহায়ক হয়েছে।
গবেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ ডায়াবেটিস, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস এবং ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজসহ বিভিন্ন রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত