বাদীর অভিযোগ, তালাকের পরও নার্গিস আক্তার মুক্তা তার মা ও দ্বিতীয় স্বামীর প্ররোচনায় পুনরায় মোটা অঙ্কের টাকার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। একপর্যায়ে কৌশলে বোরকা পরা এক অজ্ঞাত নারীকে দিয়ে চট্টগ্রামের একটি স্কুল থেকে সন্তানদের অপহরণের চেষ্টা করা হয়। ‘শিশুদের দাদি মারা গেছেন’ এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে স্কুল থেকে তাদেরকে বের করে আনার চেষ্টা করা হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষের বুদ্ধিমত্তায় সেই অপহরণ চেষ্টা নস্যাৎ হয়ে যায়।
মামলার আরজি সূত্রে জানা গেছে, অপহরণ চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর আসামি নার্গিস আক্তার চট্টগ্রামের স্থানীয় কথিত কিশোর গ্যাং লিডার রায়হান আলম রিফাতসহ (২৮) অন্যান্য অপরাধীদের ব্যবহার করে বাদীর সন্তানদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ইভটিজিং এবং অপহরণের হুমকি দিতে থাকেন। একই সঙ্গে বাদীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়।
ব্যবসায়ী মাহমুদুল হক এই অন্যায় কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় আসামিরা তার ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও মারধর করে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে চালানো এই বর্বরোচিত হামলায় বাদী গুরুতর আহত হন এবং তার হাত ভেঙে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী বাবা বাদী হয়ে চট্টগ্রাম আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি উত্তর) পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে।
ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নোমানের দাখিলকৃত প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হয় এবং প্রধান আসামি রায়হান আলম রিফাত ও সাবেক স্ত্রী নার্গিস আক্তার মুক্তার বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এই তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতেই বিজ্ঞ আদালত আসামি মুক্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন, যার ধারাবাহিকতায় গতকাল তাকে চাটখিল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।