এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) উম্মে হাবীবা মীরা বলেন, ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধীকরণ) আইনের কিছু ধারা লঙ্ঘন করে পত্রিকাগুলো প্রকাশিত হচ্ছিল। আইনের লঙ্ঘন করায় তাদের ডিক্লারেশন বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত ১৩টি পত্রিকার দুটি পাতায় সব প্রতিবেদন হুবহু প্রকাশ করায় পত্রিকাগুলোর সম্পাদক ও প্রকাশকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) উম্মে হাবীবা মীরা স্বাক্ষরিত নোটিশে পত্র পাওয়ার পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছিল। শোকজ করা ১৩টি পত্রিকার মধ্যে মো. আফসর উদ্দিন সম্পাদিত দৈনিক সবুজ ও এম এ মতিন সম্পাদিত দৈনিক নিউ টাইমস ছাড়া বাকি ১১টি পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল করা হলো।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ডিক্লারেশন বাতিলের চিঠি জারি হলেও সংবাদপত্রগুলোর সম্পাদক ও প্রকাশকদের ফোন করে চিঠি নিতে জানানো হয়। আজ সোমবার বিকেল চারটা পর্যন্ত ছয়টি সংবাদপত্র ডিক্লারেশন বাতিলের চিঠি নিয়ে গেছে।
দৈনিক আলোকিত ময়মনসিংহ ও দৈনিক দিগন্ত বাংলা সম্পাদক আ ন ম ফারুক মুঠোফোন জানিয়েছেন, ডিক্লারেশন বাতিলের চিঠি এখনো তাঁরা হাতে পাননি। চিঠি পাওয়ার পর পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন। তবে দৈনিক দেশের খবর পত্রিকার সম্পাদক এফ এম এ ছালাম বলেন, ‘আমাদের যদি রিভিউ করার সুযোগ থাকে, তাহলে রিভিউ করব। তা না হলে হাইকোর্টে যাব।’
ময়মনসিংহ অঞ্চলের সবচেয়ে পুরোনো সংবাদপত্র দৈনিক জাহান। হাবিবুর রহমান শেখের সম্পাদনায় ১৯৮০ সাল থেকে এটির প্রকাশ শুরু হয়। শুরু থেকেই সংবাদপত্রটির সঙ্গে জড়িত থাকা হাসিম উদ্দিন বর্তমানে নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
ডিক্লারেশন বাতিলের বিষয়ে হাসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পত্রিকা যখন প্রকাশ শুরু হয় তখন এ অঞ্চলে কোনো সংবাদপত্র ছিল না। গত পাঁচ-ছয় মাস আগে আমাদের ছাপাখানায় মেশিন সমস্যা দেখা দেওয়ায় অন্য একটি ছাপাখানা থেকে পত্রিকা প্রকাশ করছিলাম। এ জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদনও জমা দেওয়া ছিল। আমাদের ছাপাখানার মেশিন বসানোর কাজ চলছে। এর মধ্যে আজ ডিক্লারেশন বাতিলের কথা শুনতে পেরেছি। এখন কী করবো বুঝতে পারছি না।’