হল রাজনীতিতে স্বতন্ত্র কন্ঠস্বর: জনিকা শাবনুর সাথীর প্রতিশ্রুতি”

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন চাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী জনিকা শাবনুর সাথী। তিনি খালেদা জিয়া হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রার্থী হয়েছেন ব্যালট নম্বর ০১ নিয়ে। তার ইশতেহার শুধু একটি প্রতিশ্রুতিপত্র নয়, বরং শিক্ষার্থীবান্ধব, স্বচ্ছ ও নিরাপদ হল গড়ার এক দৃঢ় ঘোষণাপত্র।
মহেশখালীর মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া জনিকা শাবনুর সাথী বেড়ে উঠেছেন কক্সবাজার শহরে।ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল নিজেকে গড়ে তোলা আর অন্যদের জন্য কিছু করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হলে আবাসিক শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনই যেসব সমস্যার মুখোমুখি হন, তার অনেকটাই প্রত্যক্ষ করেছেন জনিকা শাবনুর সাথী। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এই শিক্ষার্থী হল সংসদের জিএস পদে প্রার্থী হয়েছেন, এবং তার লক্ষ্য একটাই হলকে নিরাপদ, শিক্ষাবান্ধব ও সমতার ভিত্তিতে পরিচালিত করা। তিনি বলেন, হল জীবনে শিক্ষার্থীদের বছরের পর বছর এই সমস্যাগুলো থেকে গেলেও কার্যকর সমাধান আসেনি। সকলের ন্যায্য অধিকার আদায়ের ইচ্ছাই আমাকে এ পর্যায়ে আসতে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি কোনো প্যানেলে নেই কারণ আমি মনে করি, রাজনীতি করার চেয়ে রাজনৈতিক সচেতনতা জরুরি সেই জায়গা থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সবার অধিকার আদায়ের জন্য লড়ছি।
শিক্ষার্থীদের সমস্যার মুখোমুখি হয়ে তিনি কখনও পিছু হটেননি। ডাইনিংয়ের মানহীন খাবার থেকে শুরু করে রিডিং রুমের বই সংকট,প্রতিটি বাস্তব সমস্যায় তিনি পাশে ছিলেন সহপাঠীদের। এই দায়িত্ববোধই তাকে অনুপ্রাণিত করেছে প্রার্থী হতে, যাতে কণ্ঠস্বর শুধু প্রতিবাদে নয়, সিদ্ধান্তেও পরিণত হয়।
২০১১ সালে পেশকার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পি.ই.সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি।
২০১৭ সালে কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কমার্স বিভাগে এস.এস.সি পাস করে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেন এবং গণিতে ৯৯ নম্বর পেয়ে তাক লাগান সবাইকে।
পরবর্তীতে ২০১৯ সালে কক্সবাজার সরকারি কলেজ থেকে এইচ.এস.সি শেষ করে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে। ২০২৩ সালে প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় স্থান (সিজিপিএ ৩.৫৮) পেয়ে অনার্স সম্পন্ন করেন এবং বর্তমানে একই বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।

জনিকা শাবনুর সাথীর নির্বাচনী ইশতেহার:
১.খাবার ব্যবস্থাপনা: ডাইনিং ও ক্যান্টিনে পর্যাপ্ত ভর্তুকি দিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করা।
খাবার সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে টোকেন সিস্টেম চালু। ন্যায্য মূল্য ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে মনিটরিং টিম গঠন।
২.নিরাপদ পানি: প্রতিটি ব্লকে ফিল্টার স্থাপন।
ক্যান্টিনেও আলাদা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা।
৩.গণরুম ব্যবস্থা: নিরাপত্তা নিশ্চিতে লকার স্থাপন।
গণরুমে পড়ার টেবিল, রান্নাঘর ও ওয়াশরুম সংস্কার।
গণরুম প্রথা নিরসনে এক্সটেনশন স্থাপনের উদ্যোগ।
৪.আবাসন: অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সিট বণ্টনে মেধা ও আর্থিক অবস্থা বিবেচনা।
সিট বণ্টনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হল মনিটরিং টিম।
ডাবলিং বেডের মাপ পরিবর্তন করে দুইজনের জন্য উপযোগী করা।
৫.রিডিং রুম: বিভাগীয় ও চাকরির প্রস্তুতিমূলক বই সরবরাহ বৃদ্ধি।
নিয়মিত পত্রিকা ও ম্যাগাজিন সরবরাহ।
৬.সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ:
মুসলিম শিক্ষার্থীদের নামাজ রুম সংস্কার।
অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য উপাসনালয় স্থাপন।
সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিভা বিকাশের প্ল্যাটফর্ম সৃষ্টি।
৭.স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা: হলে ফার্মেসি স্থাপন।
ওয়াশরুম, ট্যাংক ও রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে মনিটরিং টিম গঠন।
৮.ইন্টারনেট সেবা: শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চগতির ও নিরবচ্ছিন্ন ওয়াই-ফাই সেবা নিশ্চিত করা।
৯.অতিরিক্ত উদ্যোগ: গেস্ট রুম সংস্কার ও ব্যবহারোপযোগী করা।
মাসিক মতবিনিময় সভার মাধ্যমে প্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
হল স্টাফদের শিক্ষার্থীবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রাজনীতিতে খুব কম নারীই এত দৃঢ় অবস্থান নিয়ে সামনে এসেছেন। জনিকা শাবনুর সাথী সেই সাহসী কণ্ঠস্বর, যিনি বিশ্বাস করেন পরিবর্তন কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, বরং প্রতিদিনের কাজের মধ্যেই এর সূচনা ঘটে। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, দায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই আমরা একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সমতার ভিত্তিতে গড়া হল পরিবেশ তৈরি করতে পারব। আমার প্রতিটি প্রতিশ্রুতি, আপনাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন।”