শনিবার, মার্চ ২১, ২০২৬

১৯ বছর পর দেশে ঈদ করছেন তারেক রহমান

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
রাজনীতির ক্যালেন্ডারে কিছু দিন থাকে, যা কেবল উৎসব নয় একটি সময়ের সাক্ষ্য হয়ে ওঠে। এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতর তেমনই এক মুহূর্ত, যেখানে ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন মিশেছে রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের ধারায়।
তারেক রহমান প্রায় ১৯ বছর পর দেশে ফিরে প্রথমবারের মতো ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছেন। সর্বশেষ ২০০৭ সালে দেশে ঈদ করেছিলেন তিনি। এরপর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে লন্ডনে পাড়ি জমাতে হয় তাকে। দীর্ঘ রাজনৈতিক নির্বাসন শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তিনি।
দেশে ফেরার পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল জনসমর্থনে সরকার গঠন করেন তারেক রহমান। নির্বাসন থেকে রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে তার এই প্রত্যাবর্তনকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঢাকায়ই ঈদ উদযাপন করবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজনে কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, বিশিষ্ট নাগরিক, আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দেশে ফিরে তিনি দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং জোটকে ঐক্যবদ্ধ করে নির্বাচনে অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ঈদ উদযাপন তার জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি আবেগঘনও। কারণ এই আনন্দের মাঝেও রয়েছে অনুপস্থিতির বেদনা দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি।
দলীয় নেতারা বলছেন, এবারের ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং দীর্ঘ প্রতীক্ষা, সংগ্রাম ও নেতৃত্বের এক প্রতীকী অর্জন। বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, এই প্রত্যাবর্তন দলকে নতুন উদ্দীপনা দিয়েছে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি এনেছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এবারের ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের বাস্তব রূপ। দীর্ঘ ১৯ বছরের প্রতীক্ষা, ত্যাগ ও সংগ্রামের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ দেশের মাটিতে ফিরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঈদ উদযাপন করছেন। এটি দলের জন্য এক অনন্য গর্ব এবং আবেগময় অর্জন।
গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতন, মামলা ও কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও অবিচল থাকতে পেরেছেন তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব, সাহসী দিকনির্দেশনা এবং অটুট মনোবলের কারণে। তিনি কেবল একজন নেতা নন, বরং দলের সংগ্রামের প্রতীক এবং আত্মবিশ্বাসের উৎস।
তিনি বলেন, দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে নতুন আশার আলোয় ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ছে। এই আনন্দ বিএনপির প্রতিটি কর্মী হৃদয়ে ধারণ করে জনগণের সঙ্গে একাত্ম হয়ে উদযাপন করবেন। তাই এবারের ঈদ শুধুই আনন্দ নয়, এটি পুনর্জাগরণের, ঐক্যের এবং নেতৃত্বের বিজয়ের প্রতীক।

সর্বাধিক পঠিত