বাঁশগাড়ি দক্ষিণপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও জমি রক্ষায় গ্রামবাসীর মানববন্ধন

মেহেদী হাসান মেহের, বাঞ্ছারামপুর ব্রাহ্মণবাড়িয়া
“শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড”—এই স্লোগান সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর ইউনিয়নের বৃহত্তম গ্রাম বাঁশগাড়িতে বিদ্যালয়ের জমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
প্রায় ৫ হাজার ভোটার ও ৩টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ গ্রামে রয়েছে মাত্র একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিক্ষার্থী সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় সঠিকভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছিল। দূর-দূরান্ত থেকে শিশুরা স্কুলে আসতে না চাওয়ায় অনেকেই ঝরে পড়ছিল। এই সমস্যার সমাধানে ২০১৮ সালের শেষের দিকে গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাশগাড়ি দক্ষিণ পাড়ায় নতুন একটি বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেন।
সে সময় গ্রামের ৩নং ওয়ার্ডের মুর্শিদ মিয়ার স্ত্রী ও ছেলে রুবেল মিয়া তাদের একটি জমি প্রতি শতক ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে রাজি হন। শর্ত ছিল—জমি ক্রয়ের সময় মুশিদ মিয়ার যে রেজিস্ট্রি খরচ হয়েছিল তা গ্রামবাসী পরিশোধ করবে। শর্ত মেনে গ্রামবাসী সেখানে মাটি ভরাট, রাস্তা নির্মাণ, স্কুলের জন্য টিনের ঘর , টয়লেট ও টিউবওয়েল স্থাপনসহ নানান উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করে। জমিটি মুর্শিদ মিয়ার নামে থাকায় তিনি প্রবাস থেকে দেশে ফিরলে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়।
কিন্তু ২০২৪ সালে স্কুলসংলগ্ন আরেকটি জমি ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ায় নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়। ওই দামের প্রতি লোভে পড়ে মুর্শিদ মিয়ার স্ত্রী ও ছেলে বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। তারা দাবি করেন জমিটি নাকি জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে গ্রামবাসী শনিবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধনে অংশ নেন সাবেক ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি সাফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আব্দুর রশিদ, জহিরুল ইসলাম, স্থানীয় মেম্বার বিল্লাল হোসেন, ছাত্রদল নেতা কাউছার মিয়া, জিয়াউর রহমান, ছাত্রনেতা আতিক হাসানসহ আরও অনেকে। এছাড়াও আলমগীর হোসেন, আসাদ মিয়া, মোতালেব মিয়া, মাঈনউদ্দিন, আলাউদ্দিন, মোক্তার হোসেন, দ্বীন ইসলাম, লিল মিয়া, আকিব হাসানসহ শতাধিক গ্রামবাসী মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন—যে জমি কিনে সেখানে বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে সেটি এখন লোভে পড়ে দখল করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শিক্ষার স্বার্থে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয় রক্ষায় প্রয়োজনে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।