
রাহুল হাসান (ক্যাম্পাস প্রতিনিধি)
দীর্ঘ ৩৬ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন। এ নির্বাচনে নানা মতাদর্শ ও আদর্শে বিভক্ত প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
ইসলামি ছাত্রশিবির, ছাত্রদল, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, ছাত্র অধিকার পরিষদ, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীসহ একাধিক প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এবারের নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
ইতিহাস বিভাগের এমফিল শ্রেণির শিক্ষার্থী ইব্রাহীম হোসেন রনি শিবির সমর্থিত সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ সভাপতি। ২৪ জুলাই আন্দোলনে তিনি সম্মুখ সারিতে ছিলেন এবং চট্টগ্রামের সমন্বয়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
অন্যদিকে, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দর্শন বিভাগের (২০১৫–১৬ সেশন) শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়।
বৈচিত্র্যের ঐক্য প্যানেল থেকে ভিপি পদে লড়ছেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ও বাংলা বিভাগের মাস্টার্স শিক্ষার্থী ধ্রুব। জুলাই আন্দোলন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তিনি।
জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন শিবির সমর্থিত প্যানেলের সাইদ বিন হাবিব, ইতিহাস বিভাগের (২০১৯–২০ সেশন) শিক্ষার্থী এবং চবি শিবির শাখার সাহিত্য সম্পাদক।
অন্যদিকে, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ইসলামি আন্দোলন ছাত্রমজলিস সমর্থিত প্যানেল থেকে জিএস পদে লড়ছেন সাকিব মাহমুদ রুমী, যিনি হাতে লেখা চিঠি দিয়ে ভিন্নধর্মী প্রচারণায় আলোচনায় এসেছেন।
ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক পদে বৈচিত্র্যের ঐক্য প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সুমাইয়া শিকদার, যিনি দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন।
একই পদে বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সারাহ আলম চৌধুরী, অর্থনীতি বিভাগের (২০২০–২১ সেশন) শিক্ষার্থী ও বিজয়-২৪ হলের আবাসিক ছাত্রী।
সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক (২০২০–২১ সেশন), যিনি বুদ্ধিবৃত্তিক ও তরুণ প্রজন্মনির্ভর রাজনীতির স্বপ্ন দেখেন।
অন্যদিকে, স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন প্যানেলের রশদ দিনার জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি ইতিহাস বিভাগের (২০১৯–২০ সেশন) শিক্ষার্থী, সম্প্রতি বাগছাস থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন।
বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্য থেকে এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পদার্থবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনিম জাহান শ্রাবণ। তিনি বলেন, দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। জনগণের টাকায় পড়ছি, বিশ্ববিদ্যালয়কে কিছু দিতে চাই।
বৈচিত্র্যের ঐক্য প্যানেল থেকে এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির, যিনি জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
দপ্তর সম্পাদক পদে একক স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহসান হাবিব, যিনি চাকসু ভবনে ‘জোবরা ভাতঘর অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টার’ ব্যানার টানার মাধ্যমে প্রশাসনিক অনিয়মের প্রতিবাদে আলোচনায় এসেছিলেন।
সহ-দপ্তর সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের (২০২০–২১ সেশন) শিক্ষার্থী আলীমূল শামীম রাব্বী।
যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক পদে শিবির সমর্থিত প্যানেলের ইশহাক হোসেন ভুঁঞা এবং ভয়েস অব সিইউ প্যানেলের আশিকুর রহমান আশিক (ইসলামিক স্টাডিজ, ২০২২–২৩ সেশন) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একক স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফ ইসলাম চৌধুরী (লোক প্রশাসন, ২০২১–২২ সেশন) ক্যারিয়ার ও ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক পদে লড়ছেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে শিবির সমর্থিত প্যানেলের মোনায়েম শরীফ ও ভয়েস অব সিইউ প্যানেলের রবিউল ইসলাম শাফি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।শাফি সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও প্রচারণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছেন।
সহ-সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে শিবির সমর্থিত প্যানেলের জায়েদ আহনাফ আলোড়ন সৃষ্টিকারী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। সমাজসেবা ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শুভ হোসেন, যিনি জুলাই আন্দোলনে ছাত্রলীগের গুলিতে এক চোখ হারান, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই পদে জনি রয় প্রার্থী হয়েছেন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছেন।
আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে শিবির সমর্থিত প্রার্থী তৌহিদুল ইসলাম রাব্বী আইন বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে ‘সবাইয়ের জন্য সমান আইন’ তৈরির অঙ্গীকার করেছেন।
অন্যদিকে, গবেষণা ও উদ্ভাবন সম্পাদক পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ফায়েজ রহমান দ্বীপ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উল্লেখ,চাকসু নির্বাচনের এবারের আসরে প্যানেলভিত্তিক লড়াইয়ের পাশাপাশি আদর্শিক অবস্থান, আন্দোলনের ইতিহাস ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ভোটের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
