সোমবার, ডিসেম্বর ১, ২০২৫

চট্টগ্রামে ১০ বছরে ১২০ হাতির মৃত্যু!

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
একদিকে বন বিভাগের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব। অন্যদিকে নির্দিষ্ট কোনো আইন না থাকায় বন্য হাতির মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না। উদ্বেগজনকভাবে, চট্টগ্রামে গত ১০ বছরে নানা কারণে অন্তত ১২০টি হাতির মৃত্যু হয়েছে।
প্রায় প্রতি বছর হাতি মারা গেলেও বন বিভাগ হাতি রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। সারাদেশে বন্য হাতির সংখ্যা হাতে গোনা। ২০১৬ সালের জরিপ অনুযায়ী, এই সংখ্যা ছিলো মাত্র ২৬৮। এর মধ্যে শুধু বাঁশখালী উপজেলাতেই গত ১০ বছরে ১৭টি হাতির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় হাতি চলাচলের রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়া এবং নানা রোগ সংক্রমণের কারণে হাতির মৃত্যু হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি এন্ড ইনভাইরনমেন্টাল সাইন্স বিভাগের হাতি গবেষক অধ্যাপক ড. এ এইচ এম রায়হান সরকার জানান, বন বিভাগ এখনো এ নিয়ে বড় কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করেনি।
২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বেসরকারি সংস্থা আই-ইউ-সি-এন পরিচালিত জরিপে হাতির চলাচলের ১২টি করিডর চিহ্নিত করা হয়েছিলো। এর মধ্যে দক্ষিণ বন বিভাগের আওতায় থাকা চুনতি-সাতগড় করিডরটি এখন প্রায় বন্ধ।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ জানান, এই করিডরের ওপর দিয়েই নির্মাণ করা হয়েছে রেললাইন।
এদিকে, হাতির মৃত্যু ঠেকাতে বিদ্যুতের ফাঁদ অপসারণ, কৃষকদের সচেতন করা এবং হাতির আক্রমণ ঠেকাতে রেসপন্স টিম গঠনের মতো কিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও তার কোনোটিই স্থায়ী হয়নি।

সর্বাধিক পঠিত