রাঙামাটির জুরাছড়িতে ৭ কোটি টাকার স্কুল ভবন নির্মাণে চরম অনিয়ম! ঠিকাদার নেই, প্রকৌশলীরাই এখন ঠিকাদার!

মো. কামরুল ইসলাম ফয়সাল
রাঙামাটির জুরাছড়িতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে ৭ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভুবনজয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছয়তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানেরকাজের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ভবনটির কাজ পান এনআইএসআই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। পরে বিগত সরকারের সময়ে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মো. সেলিম উল্লা’ এই কাজ শুরু করে এনআইএসআই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের হয়ে। কিন্তু চলমান কাজ শেষ না হতেই গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি সাইট ছেড়ে পালিয়ে যায়।
এরপর নতুন করে কোনো দরপত্র আহ্বান বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ না করেই জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তিন কর্মকর্তা নিজেদের তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তারা হলেন—রাঙামাটি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বিজক চাকমা, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) আলো জ্যোতি চাকমা ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুমন চাকমা।
সাইটে গিয়ে দেখা গেছে, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালি, রড, ইট ও সিমেন্টের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। ছাদের ঢালাইয়ে ভাইব্রেশন মেশিন ব্যবহার করা হয়নি, ফলে নতুন ছাদের নিচে একাধিক স্থানে রড দেখা যাচ্ছে এবং ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।

সাইটে উপস্থিত শ্রমিক ও ম্যানেজাররা জানিয়েছেন, আমরা কোনো ঠিকাদারের অধীনে কাজ করছি না, প্রকৌশলীরাই সরাসরি কাজ করাচ্ছেন।
এ বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী সুমন চাকমা বলেন, টিকাদার প্রতিষ্ঠান ছাড়াই কাজ করার অভিযোগ সত্য নয়। বিষয়টি নিয়ে ক্যামরার সামনে বক্তব্য দেননি সংশ্লিষ্ট দপ্তর কেউ।
তবে নির্মাণকাজে যুক্ত শ্রমিক ও স্থানীয়দের বক্তব্যে তার এই দাবির সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি।
সরকারি ক্রয়বিধি (Public Procurement Rules 2008) অনুযায়ী, কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তিভঙ্গ করে কাজ ফেলে গেলে প্রথমে তাকে লিখিত নোটিশ দিতে হয়, পরবর্তীতে চুক্তি বাতিল ও পারফরম্যান্স গ্যারান্টি বাজেয়াপ্ত করতে হয়। এরপর নতুন দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমেই বাকি কাজ সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে।
সরকারি ক্রয়বিধির ৩৭ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে কোনো প্রকৌশলী বা দপ্তর নিজেরা শ্রমিক এনে কাজ করাতে পারবেন না। এই ধরনের পদক্ষেপকে “অবৈধ ব্যয়” (Irregular Expenditure) হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তা অডিট আপত্তির আওতায় পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ার পরও প্রকৌশলীরা নিজেরা কাজ চালিয়ে যাওয়াটা আইনবহির্ভূত ও দায়মুক্তির সুযোগহীন একটি পদক্ষেপ।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, সরকারি অর্থে ভবন নির্মাণ হলেও কাজের মান নিম্নমানের হওয়ায় এর স্থায়িত্ব এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তারা দ্রুত তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিতকরণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।