সোমবার, ডিসেম্বর ১, ২০২৫

স্বাস্থ্যসেবায় সংকটে দ্বীপ মহেশখালী, ৫০ শয্যার হাসপাতালেই ৫ লাখ মানুষের ভরসা

ঊম্মে হাবিবা শিরু
বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ ও বঙ্গোপসাগরবেষ্টিত উপজেলা মহেশখালী। চারপাশে সমুদ্র, মাঝখানে টিলা আর পাহাড়ি উঁচুনিচু ভূমির এই দ্বীপে বসবাস করছে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ। কিন্তু এত মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। পর্যাপ্ত জনবল ও শয্যা সংকটে দীর্ঘদিন ধরেই এখানে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
মহেশখালী পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন- বড় মহেশখালী, ছোট মহেশখালী, মাতারবাড়ি, হোয়ানক, কালারমারছড়া, কুতুবজোম, ধলঘাটা ও শাপলাপুর মিলিয়ে বিস্তৃত এ দ্বীপ উপজেলার প্রায় প্রতিটি অঞ্চলের মানুষই চিকিৎসার জন্য নির্ভর করে এই হাসপাতালের ওপর। কিন্তু রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
সম্প্রতি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অবস্থা আরও নাজুক হয়েছে। হাসপাতালে নির্ধারিত বেড না থাকায় অনেক রোগীকে একই বেডে দুই থেকে তিনজন মিলে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। কেউ কেউ ফ্লোরে বিছানা পেতে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডে জায়গার অভাবে এক বেডে একাধিক শিশু রোগী ভর্তি রাখা হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বড় মহেশখালীর বাসিন্দা ছলিমা বেগম বলেন, “ডেলিভারির সময় হাসপাতালের বেড পাওয়া যায় না। একে তো দ্বীপ, তার ওপর নৌকা ছাড়া বাইরে নেওয়াও কঠিন। তাই অনেক সময় ফ্লোরেই থাকতে হয়।”
পৌর এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাদেরের অভিযোগ, “হাসপাতালে ডাক্তার আর ওষুধ দুই-ই কম। ৫০ শয্যার হাসপাতালে এত রোগী আসলে কাকে আগে সেবা দেবে?”
মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহফুজুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আজমল হুদা শেহজাদ বলেন, “মহেশখালী একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এলাকা। এখান থেকে রোগীদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো কষ্টকর। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের জন্য ৫০ শয্যার হাসপাতাল একেবারেই অপ্রতুল। তাই ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি।”
তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালে জনবল সংকটও বড় সমস্যা। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও সেবাকর্মী না থাকায় রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। আমরা বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।”
স্থানীয়দের দাবি, মহেশখালীতে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এখন ‘প্রাণের দাবি’। দ্রুত হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের ব্যবস্থা না নিলে দ্বীপের মানুষকে আরও দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

সর্বাধিক পঠিত