
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চার মাস আগে বান্দরবানের লামা ভূমি অফিসে বদলী হন কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ার সহিদুল হাসান। কিন্তু সেই আদেশ এখনো ফাইলবন্দী থেকে গেছে। বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ নেই। অন্যদিকে বদলিকৃত এলাকায় ওই পদটি এখনো শূন্য। সেবা বঞ্চিত হচ্ছে সেখানকার বাসিন্দারা।
লামা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবায়েত আহমেদ বলেন, উপজেলায় দুইটি সার্ভেয়ার পদের একজনও নেই। তার যোগদানের একমাস আগেই কক্সবাজারে সংযুক্তিতে চলে যান সহিদুল হাসান। যে কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ পড়ে আছে। অফিস সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে , গত ১০ জুলাই সহিদুল হাসানকে লামায় বদলির আদেশ দেন সিনিয়র সহকারী কমিশনার এস এম অনীক চৌধুরী। কিন্তু সেই আদেশের কোন কার্যকরিতা নেই। এখনো বহাল তবিয়তে কক্সবাজার অফিস করছেন সহিদুল হাসান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কমিশন বাণিজ্য ওপেন সিক্রেট বিষয়। এখানে প্রতি আবেদনের ফাইলেই সার্ভেয়ারদের জন্য গুনতে হয় ১০ থেকে ১৫ পার্সেন্ট। ক্ষেত্রবিশেষে তারও বেশি দিতে হয়। তাই সহজেই কক্সবাজার ছাড়তে চায়না কর্মরতরা।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর সময়কালে সহিদুল হাসান নানা অজুহাতে ক্ষতিপূরণের চেক আটকে রেখে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিধান রুদ্র, রাসেল, রিয়াদসহ আরো কয়েকজন দালালের সঙ্গে হাত রয়েছে তার।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, চকরিয়া পালাকাটা মৌজার ১৮৮ নং রোয়েদাদের বিএস ৮০৯৩ নং দাগের দলিলের জমির পরিমাণ কর্তন করে আবেদনকারী আওয়ামী লীগ নেতা জামাল হোসেন চৌধুরীকে বেশি জমি দেখিয়ে এক কোটি ৩৭ লক্ষ টাকার চেক প্রদান করেছেন, যা তদন্ত করলে সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে। এরকম আরো অনেক অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী জনগণ। মূলত এসব অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিতে কক্সবাজার ছাড়তে নারাজ সহিদুল হাসান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সহিদুল হাসানকে ফোনে পাওয়া যায় নি।
তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, কক্সবাজারে কাজের চাপ বেশি। সেই পরিমাণ লোকবল নেই। প্রয়োজনে ছাড়া হয়নি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীনের বক্তব্য জানতে চাইলে বলেন, সরকারি অফিস আদেশ অমান্যের সুযোগ নাই। খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।
