
চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের হুমকিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। মঙ্গলবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, তার পূর্বসূরিদের মতো ট্রাম্পও ইরানকে ধ্বংস করতে ব্যর্থ হবেন। তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে খামেনি দৃঢ়তার সাথে জানান, পরমাণু প্রযুক্তি ইরানের সহজাত অধিকার এবং কোনো ধরনের চাপের মুখে তারা মাথানত করবে না।
সম্প্রতি পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেছিলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন হবে দেশটির জন্য সবথেকে মঙ্গলজনক ঘটনা। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের জবাবে খামেনি বলেন, গত ৪৭ বছর ধরে আমেরিকা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। মার্কিন রণতরী মোতায়েন নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, একটি যুদ্ধজাহাজ অবশ্যই বিপজ্জনক অস্ত্র, কিন্তু তার চেয়েও বড় বিপদ হলো সেই অস্ত্র যা ওই জাহাজকে ডুবিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
গত জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওয়াশিংটন ওই সময় ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে বোমা হামলা চালানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরীসহ অতিরিক্ত বিমান ও নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে। এর পাশাপাশি ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটে মার্কিন মদদ দেওয়ার বিষয়টি তেহরানকে আরও ক্ষুব্ধ করেছে।
তবে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ওমানে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে, যাকে ইরান শুভ সূচনা হিসেবে দেখছে। তেহরান একটি ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত চুক্তির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমিয়ে আনতে রাজি থাকলেও ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত ইরানের পুরো পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার দাবিতে অটল রয়েছে।
