যুক্তরাষ্ট্রের আচরণকে ‘অবৈধ আগ্রাসন’ বলে উত্তর কোরিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি; ইরানের পাশে থাকার ইঙ্গিত

রাজিন সালেহ
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলা এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম ধরে কড়া ভাষায় তোপ দাগলো উত্তর কোরিয়া। ওয়াশিংটনের এই অভিযানকে “দস্যুপনা” এবং “অবৈধ আগ্রাসন” হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।
উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা কেসিএনএ (KCNA) প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই হামলার কঠোর সমালোচনা করেন। বিবৃতিতে সরাসরি বলা হয়েছে যে, ইরানের ওপর এই আক্রমণ যুক্তরাষ্ট্রের চিরচেনা আধিপত্যবাদী এবং “গ্যাংস্টারসুলভ” বা দস্যুপনা আচরণেরই একটি নির্লজ্জ বহিঃপ্রকাশ। উত্তর কোরিয়া মনে করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের নিজস্ব স্বার্থ চরিতার্থ করতে আন্তর্জাতিক আইনকে পুরোপুরি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই বর্বর হামলা চালিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও এএফপি উত্তর কোরিয়ার এই প্রতিক্রিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রচার করেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের এই ধরনের আগ্রাসনী নীতি পিয়ংইয়ংয়ের কাছে মোটেও অপ্রত্যাশিত ছিল না। তারা ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর এ ধরনের সামরিক চড়াও হওয়া বিশ্ব শান্তির জন্য এক ভয়াবহ হুমকি। পিয়ংইয়ং স্পষ্টভাবে দাবি করেছে, এই উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যসহ সমগ্র বিশ্বের স্থিতিশীলতাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এদিকে আল জাজিরা ও ডন নিউজ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের অন্যতম প্রধান মিত্র হিসেবে পরিচিত উত্তর কোরিয়া এই সংকটময় মুহূর্তে তেহরানের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর চীন ও রাশিয়ার পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার এই সরাসরি আক্রমণাত্মক অবস্থান ওয়াশিংটনের ওপর বড় ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করবে। উত্তর কোরিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সার্বভৌম কোনো দেশের ওপর এ ধরনের সামরিক দস্যুপনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং এর ফলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির পূর্ণ দায়ভার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকেই বহন করতে হবে।
এই হামলার পর বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ ও তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। উত্তর কোরিয়া বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের এই “দস্যু রাষ্ট্রসুলভ” আচরণের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।