বুধবার, এপ্রিল ২৯, ২০২৬

ক্লিন সিটি গড়ে তুলতে নানা পদক্ষেপের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
রাজধানী ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রীন সিটি রূপে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সংসদে জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ (বুধবার) সকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব পদক্ষেপের কথা বলেন। সংসদ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করছেন।
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম প্রশ্ন রাখেন রাজধানী ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রীন সিটি রূপে গড়ে তুলতে সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কি না?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাজধানী ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রীন সিটি রূপে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নানাবিধ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নাগরিক সচেতনতা ও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের পাশাপাশি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনসমূহ (বর্জ্য ফেলার স্থান) আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ল্যান্ডস্কেপিং, সবুজায়ন সচেতনতামূলক গ্রাফিতি কাজ অন্তর্ভুক্ত করে পরিবেশসম্মতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার রোড মিডিয়ান, সড়ক দ্বীপ ও উন্মুক্ত স্থানসমূহ সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক কোরিয়া ভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমি ভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করার মাধ্যমে সকল বর্জ্যকে জিরো বর্জ্যতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরশনের আওতাভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় নগর বনায়ন (মিয়াওয়াকি ফরেস্ট) উন্মুক্ত মিডিয়ান জিরো সয়েল/সবুজে আবৃত করা হচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকায় আগামী ৫ বছরে ০৫ লক্ষ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মেট্রোরেলের নিচের খালি অংশে (মিরপুর-১২ হতে মিরপুর ডিওএইচএস পর্যন্ত) এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (আব্দুল্লাহপুর হতে ফার্মগেট পর্যন্ত অংশের) নীচে খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণ করা হবে।
রাজধানী ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রিন সিটি রূপে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সমন্বিতভাবে আধুনিক বাস সার্ভিস ও ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ঢাকার বায়ুদূষণের উল্লেখযোগ্য উৎসসমূহ চিহ্নিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন, কনস্ট্রাকশন কার্যক্রম ও নির্মাণ সামগ্রী দ্বারা বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ রোধে ঢাকার চারদিকে অবস্থিত অবৈধ দূষণকারী ইটভাটাসমূহ বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অধিকন্তু ঢাকা মহানগরীর বায়ুদূষণ হ্রাস করার লক্ষ্যে ঢাকার সাভার উপজেলাকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়েছে এবং উক্ত এলাকায় ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো ইত্যাদি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
‘ঢাকা ও আশেপাশের নদী, খাল ও জলাশয় দূষণরোধে তরল বর্জ্য নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহে ইটিপি (Effluent Treatment Plant) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অদ্যাবধি ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের তরল বর্জ্য পরিশোধনের জন্য স্থাপিত ইটিপির রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণের জন্য আইপি ক্যামেরা স্থাপন চলমান রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ইতোমধ্যে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ নদীর দূষণের উৎস এবং প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে ঢাকা মহানগরে প্রবাহিত ১৯টি প্রধান খালের দূষণের উৎস এবং প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরকে সবুজে আচ্ছাদিত করা, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন অধিদপ্তর কর্তৃক ঢাকা উত্তর/দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে যৌথভাবে রাস্তার মিডিয়ান, ইউলুপ, পন্ডিং এরিয়া এবং খালের পাড়সমূহে বৃক্ষরোপণ এবং জিরো সয়েল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রজাতির ৪১ হাজার ৫শত ৬৫টি ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা শহরের দূষণ কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রজাতির লতা, গুল্ম ও ঘাস দ্বারা মাটি আবৃত করা হয়েছে। আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রীন সিটি রূপে গড়ে তুলতে বনায়নযোগ্য খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এ সকল কার্যক্রম ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা শহর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

সর্বাধিক পঠিত