রবিবার, মে ৩, ২০২৬

মহানবী (সা.)-এর প্রতি আবু বকর (রা.)-এর ভালোবাসা

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
ইসলামের ইতিহাসে ভালোবাসার এক অনন্য, উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হলো মহানবী (সা.)-এর প্রতি আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর গভীর ভালোবাসা। এই ভালোবাসা শুধু আবেগের নয়, বরং আত্মত্যাগ, বিশ্বাস ও নিঃস্বার্থ আনুগত্যে পূর্ণ এক সম্পর্ক। মহানবী (সা.)-এর প্রতি তাঁর ভালোবাসা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে নিজের জীবন, সম্পদ—সব কিছুই তিনি বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত ছিলেন। সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে তিনি ছিলেন নবীজির ছায়াসঙ্গী।
তাই তাঁর এই ভালোবাসা আমাদের জন্য এক অনুপম শিক্ষা—কিভাবে সত্যিকারের ভালোবাসা ঈমানকে শক্তিশালী করে এবং মানুষকে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। এভাবে তিনি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণের সম্মান অর্জন করেন। ইসলাম গ্রহণের পর থেকেই তিনি ছিলেন মহানবীর প্রতি নিবেদিতপ্রাণ। হিজরত, সফর এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জিহাদে অংশগ্রহণসহ নানা প্রতিকূলতায় মহানবীজির পাশে ছিলেন ঢাল হিসেবে।
শত্রুবাহিনীর সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় তিনি ছিলেন বিচক্ষণ ও আপসহীন। বিশেষভাবে নবীজির ইন্তেকালের পর যখন আরব দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে ধর্মত্যাগ ও রাসুলের প্রতি বিদ্বেষের এক প্রবল ঝড় উঠে ছিল। এই ঝড়ের ঝাপটায় দুর্বল ঈমানদার এবং নতুন ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্তর থেকে ঈমানের আলো প্রায় নিভে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কঠিন সেই মুহূর্তে আবু বকর (রা.) অত্যন্ত দৃঢ়তা ও সীমাহীন ধৈর্যের সঙ্গে শত্রুবাহিনীর মোকাবেলায় অগ্রসর হয়েছিলেন।
আর এ সব কিছুই ছিল নবীর প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা এবং গভীর মহব্বতের বহিঃপ্রকাশ। মৃত্যুকালেও তাঁর এই ভালোবাসার ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল। বর্ণিত আছে, ‘মৃত্যুশয্যায় তিনি আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, নবীজি কোন দিন ইন্তেকাল করেছেন। আয়েশা (রা.) জানালেন, সোমবার। তিনি বললেন, আজ কী বার? আয়েশা (রা.) জবাব দিলেন, সোমবার।
তখন তিনি বলেন, হায়, যদি আমার মৃত্যু রাতের আগেই হতো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর : ১৩৮৭)

 

সর্বাধিক পঠিত