সোমবার, জুন ১, ২০২৬

ইরানের হামলায় ২০ মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত: বিবিসি

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক 

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে নতুন এক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, চলতি বছরের সংঘাত চলাকালে ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত অন্তত ২০টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) প্রকাশিত বিবিসি ভেরিফাইয়ের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে স্যাটেলাইট ছবি ও ভিডিও পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ইরাক, জর্ডান, বাহরাইন ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের স্যাটেলাইট ছবি এবং স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেটের সংরক্ষিত ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

যদিও হোয়াইট হাউস বারবার দাবি করেছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতি থেকে বোঝা যায়, ইরানের পাল্টা হামলা মার্কিন কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে যতটা স্বীকার করেছেন, তার চেয়ে বেশি নিখুঁত ও ব্যাপক ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল রুওয়াইস ও আল সাদাদ বিমানঘাঁটি এবং জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা তিনটি উন্নত অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী ও নজরদারি বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমান এবং অগ্নিকাণ্ডের চিহ্ন শনাক্ত করা হয়েছে।

মিলিটারি অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স অ্যাসেসমেন্ট রিসার্চের (এমএআইএআর) এক বিশ্লেষক ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমানগুলোর মধ্যে একটি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান শনাক্ত করেছেন। মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের একটি বিমান প্রতিস্থাপনে প্রায় ৭০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে।

এ ছাড়া কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং ক্যাম্প আরিফজানেও হামলার প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। এমএআইএআরের বিশ্লেষকেরা স্যাটেলাইট ছবিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত জ্বালানি সংরক্ষণ বাঙ্কার, বিমান হ্যাঙ্গার এবং সেনা আবাসনের চিহ্ন শনাক্ত করেছেন। তাদের মতে, সংঘাত চলাকালে এসব স্থাপনা একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে।

অন্যদিকে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান জেনস জানিয়েছে, ক্যাম্প আরিফজানে স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামও উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করার পদক্ষেপ নেয়।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত পরবর্তী আলোচনায় স্থায়ী কোনো সমাধান আসেনি। এরপর থেকে সংঘাত নিরসন ও সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে উভয় পক্ষ বিভিন্ন প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাব নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

সর্বাধিক পঠিত