বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২৬

ব্যবসায়ীদের টার্গেট রমজান,সয়াবিন তেলের দাম ৮ টাকা বাড়ল

সয়াবিন তেলের দাম বাড়ল ৮ টাকা ,সয়াবিন তেলের দাম ৮ টাকা বাড়ল

মোহাম্মদ জামশেদুল ইসলাম (চট্টগ্রাম)

বাজারে ভোজ্যতেল ‘সংকট’ অবস্থার মধ্যেই বাড়ানো হলো সয়াবিন তেলের দাম। বোতলজাত ও খোলা এ দুই ধরনেই প্রতি লিটারে ৮ টাকা করে দাম বাড়ানো হয়েছে।সোমবার (৯ ডিসেম্বর) ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এ তথ্য জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন।আজ (সোমবার) থেকে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম হবে ১৭৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন বিক্রি হবে ১৫৭ টাকা। এরআগে, বোতলজাত তেল ১৬৭ টাকা ও খোলা তেল ছিল ১৪৯ টাকা।বাণিজ্য উপদেষ্টা বশির উদ্দিন বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে তেলের ঘাটতি রয়েছে। এ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, ভোক্তারাও অস্বস্তিতে রয়েছেন। সেজন্য আমরা তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করি বাজারে আর তেলের ঘাটতি হবে না।তিনি বলেন, ‘গত এপ্রিলে ১৬৭ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর এখন পর্যন্ত বিশ্ববাজারে দাম অনেকটাই বেড়েছে। যে কারণে দেশে স্থানীয় মজুতদারি বেড়েছে। তেলের পযাপ্ত মজুত রয়েছে। অনেকে কিনে মজুত করেছে। ভোক্তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে আমরা সেটা মনিটরিং করছি। কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলে এখন একটি যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করে দিয়েছি। আর সমস্যা হবে না।

ব্যবসায়ীদের টার্গেট রমজান!ভোজ্যতেল নিয়ে কারসাজি

দিনগুণিয়ে আসছে! কাছে চলে আসছে রমজান। রমজানের বাকি এখনো আড়াই মাসেরও বেশি! এর মধ্যেই বাজারে ভোজ্যতেল নিয়ে কারসাজি শুরু হয়ে গেছে। কোম্পানিগুলোও তৈরি করছে তেলের কৃত্রিম সংকট। তবে এ মুহূর্তে সাধারণ ক্রেতারা ‘প্রভাব’ আঁচ করতে না পারলেও ঠিকই চাপে পড়েছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি— বর্তমানে বাজারে সয়াবিন তেলের (বোতলজাত) সংকট রয়েছে। চাহিদা মতো সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আর এখন চাহিদা মতো তেল নিতে গেলে ডিলার পর্যায়ে অন্য পণ্য কেনার শর্ত জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।রবিবার ও সোমবার (৮ ও ৯ ডিসেম্বর) ভোগ্যপণ্যের বড়বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এবং রিয়াজউদ্দিন ও পাহাড়তলী বাজার ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।এদিকে, বাজারে খোলা তেলের দাম বাড়ার কারণে বোতলজাত তেলের এমন সংকট দেখা দিয়েছে বলেও দাবি ব্যবসায়ীদের। কারণ বোতলজাত তেলের চেয়ে খোলা তেলের দাম বাড়তি। তাই বোতলজাত তেল ড্রামে ঢেলে খোলা তেল হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। এতেই বোতলজাত তেলের সংকট দেখা দিচ্ছে।খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, এখন আগের মতো ডিলারদের কাছ থেকে তেল চাহিদা মতো পাওয়া যাচ্ছে না। তারা তেল দিচ্ছে স্বল্প পরিমাণে। পুষ্টি, ফ্রেশ, তীরসহ সব কোম্পানি শর্ত দিয়ে তেল সরবরাহ করছে। এক কার্টন তেল নিতে গেলেই তাদের (ডিলার) কাছ থেকে ১ বস্তা দুধ, সুজি, আটা ও চিনি নিতে হচ্ছে। তাদের শর্ত মতো ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করতে গেলে নানা কথা শুনতে হচ্ছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাতুনগঞ্জের এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, ‘রোজা এলেই অসাধু সিন্ডিকেট তৈরি হয়ে যায়। এবারও রমজান আসার আগেই বাজার ধরতে এমন পন্থা। এখন সংকট দেখালে রোজায় বাড়তি দামেই তেল বিক্রি করা যাবে। কারণ তখন তো ভোক্তারা কিনতে বাধ্য।তিনি আরো বলেন, ‘এস আলমের কারখানা তেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার কারণেও একটা প্রভাব পড়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের চাহিদার সিংহভাগই এস আলমের তেল। এখন সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অসাধু সিন্ডিকেট সেই বাজার ধরতে চেষ্টা করছে।’

বাজারের পরিবেশ নষ্ট করছে!তেলের সঙ্গে অন্য পণ্য কেনার শর্ত

রিয়াজউদ্দিন বাজারের শহিদুল হক নামে এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, ‘বাজারে এখন সয়াবিন তেলের সংকট। পাঁচ কার্টন চাইলে এক কার্টন মিলে। সেই সঙ্গে রয়েছে শর্ত; আর শর্ত না মানলে তেলই সাপ্লাই দিচ্ছে না। তারা তেলের জন্য যে শর্ত দিচ্ছে সেসব পণ্য আবার গ্রাহকরা নিতে চান না। তারা না নিলে আমাদের তো কিছু করার নেই।’ ‘তখন আমাদের তেল নেওয়া বা বিক্রি পোষায় না। আর কোম্পানির শর্ত মানতে গিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়াতে হয়। এখন তারা তাদের টাকা দিয়ে পণ্য কিনবে; সেটা তো একান্তই তাদের ইচ্ছে কোনটা কিনবে বা কিনবে না। এখন আমরা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া মানে ব্যবসার পরিবেশ নষ্ট হওয়া।’-যোগ করেন এই ব্যবসায়ী।তিনি আরো বলেন, ‘বাজারে এখন পুষ্টি, ফ্রেশ ও তীর কোম্পানির তেল সরবরাহ আছে। তারা শর্ত দিচ্ছে এক কার্টন তেল নিলে সঙ্গে এক বস্তা আটা, সুজি, চিনি ও দুধ নিতে হবে। তাদের শর্ত মেনে না নিলে বাড়তি দামে তেল নিতে হয়। আর এতে গ্রাহক পর্যায়েও বেড়ে যাচ্ছে দাম। তাই এখন অনেক দোকানে সয়াবিন তেলই বিক্রি হচ্ছে না। আর যারা বিক্রি করছেন তারা বোতলজাত বাদ দিয়ে খোলাতেল বিক্রি করছেন।পাহাড়তলী বাজারের মিজান এন্ড ব্রাদার্সের মো. মিজান বলেন, ‘সয়াবিন তেল তো পাওয়া যাচ্ছে না। সয়াবিন তেল অর্ডার দিলে কোম্পানির কাছ থেকে তাদের অন্য মাল নেয়া বাধ্যতামূলক। ঠেকায় পরে এখন সয়াবিন তেলের সাথে চালের প্যাকেটও নিতে হচ্ছে। এক লিটার বোতলজাত তেল ১৬৫-১৭৩ টাকা। সামনে শুনছি আরো দাম বাড়বে।এদিকে ডিলাররা সরাসরি বক্তব্য দিতে রাজি না হলেও তেলের সঙ্গে অন্য পণ্য কেনার শর্তের কথা স্বীকার করেছেন। গণমাধ্যমে এর বেশি কথা বলতে রাজি নন তারা।

সর্বাধিক পঠিত