রবিবার, মে ২৪, ২০২৬

ইরান যুদ্ধের ৪০ দিনে ৪২ যুদ্ধবিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক

ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধের সূচনা হয়, তাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্তত ৪২টি বিমান ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র শুরু থেকে শত্রুপক্ষের আঘাত, নিজেদের বাহিনীর ভুল গোলাবর্ষণ (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) এবং যুদ্ধকালীন বিভিন্ন দুর্ঘটনার কারণে এই ৪২টি বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে রয়েছে ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, চারটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল ফাইটার জেট, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ স্টেলথ ফাইটার, একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ অ্যাটাক এয়ারক্রাফট, সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট, একটি ই-৩ সেন্ট্রি অ্যাওয়াক্স নজরদারি বিমান, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো-২ বিমান, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন-২ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার এবং একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে ফ্রেন্ডলি ফায়ারে তিনটি এবং ৫ এপ্রিল ইরানে যুদ্ধকালীন অভিযানে একটি এফ-১৫ই ফাইটার জেট ধ্বংস হয়। ইরাকের আকাশে একটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হন এবং ১২ মার্চ অপর একটি বিমান জরুরি অবতরণ করে। এছাড়া সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় পাঁচটি রিফুয়েলিং ট্যাংকার ও একটি ই-৩ সেন্ট্রি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি এফ-৩৫এ বিমান ইরানের স্থলবাহিনীর গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

কংগ্রেসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হারানো এসব বিমান প্রতিস্থাপনে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। সামগ্রিকভাবে পেন্টাগন তাদের মেরামত ও প্রতিস্থাপন ব্যয়ের প্রাক্কলন ২৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীকে হত্যার পর এই যুদ্ধ শুরু হয়। ট্রাম্প এই সংঘাতকে সফল দাবি করলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী রণক্ষেত্রে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘসি এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে উপহাস করেছেন। সিএনএনের এক তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৬টি সামরিক ঘাঁটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইরান প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত তাদের সামরিক শিল্পঘাঁটি পুনর্নির্মাণ করছে এবং ড্রোন উৎপাদন শুরু করেছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে।
সূত্র: প্রেসটিভি

সর্বাধিক পঠিত