কক্সবাজারে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে স্টেকহোল্ডার মিটিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (GBV) প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সমন্বিত কার্যক্রম এবং ভুক্তভোগীর সেবা নিশ্চিত করতে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হলো স্টেকহোল্ডার মিটিং। শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) পৌরসভা সম্মেলন কক্ষে এমবোল্ডেন বাংলাদেশ ও অ্যাকশনএইড-এর বাস্তবায়িত GOLD Project এ আয়োজন করে।
সভায় মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষার্থী, নারী উদ্যোক্তা ও যুবনেতারা অংশ নিয়ে অনলাইন ও অফলাইনে নারীদের ওপর সহিংসতার বাড়তি ঝুঁকি এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের পথে বাধাসমূহ তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো কক্সবাজারেও ডিজিটাল হয়রানি, পারিবারিক নির্যাতন, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, ভুক্তভোগী নারীরা অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ জানানো, মামলা পরিচালনা, আইনি সহায়তা পাওয়া এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ সব পর্যায়ে জটিলতা ও সমন্বয়হীনতার মুখে পড়েন। ফলে ন্যায়বিচারের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
সভায় বক্তারা GBV প্রতিরোধে বেশ কিছু সুপারিশ পেশ করেন যার মধ্যে কিশোর-কিশোরী ও অভিভাবকদের জন্য বিশেষ সচেতনতা কর্মসূচি,স্কুল ও কলেজে জেন্ডার শিক্ষা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সক্রিয় করা, অনলাইন নিরাপত্তা ও ডিজিটাল লিটারেসি বাড়ানোর কথা উঠে আসে।
যুবসমাজের নেতৃত্বকে GBV প্রতিরোধে সম্পৃক্ত করা,
গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল প্রতিবেদন ও ক্যাম্পেইনে যুক্ত করা,ভুক্তভোগীদের জন্য সেবা প্রদানের দক্ষতা ও সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়কেও গুরুত্ব দেয়া হয়।
সভায় উপস্থিত বক্তারা মনে করেন, GBV প্রতিরোধে শুধু আইন প্রণয়ন বা দমনমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়; বরং পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সচেতনতা ও মনোভাবের পরিবর্তন জরুরি।
এদিকে এমবোল্ডেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বলেন, মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে তারা দেখেছেন ভুক্তভোগীরা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েন অভিযোগ জানানো ও প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়ায়। অংশগ্রহণকারীদের মতামত ভবিষ্যতে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে নতুন কর্মসূচি ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মন্তব্য করেন।
তারা বলেন,“সহিংসতামুক্ত, সমতাভিত্তিক সমাজ গড়তে প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও কমিউনিটির সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এমবোল্ডেন বাংলাদেশ ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত আকারে চালিয়ে যাবে।”
সভায় অংশ নেওয়া সমাজকর্মীরা শেষ পর্যন্ত একমত হন যে, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সমন্বিত ব্যবস্থা ও সচেতনতা বৃদ্ধিই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ। নারীর প্রতি সহিংসতা কেবল ব্যক্তির সমস্যা নয়; এটি একটি সামাজিক সংকট। তাই পরিবার থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।