মঙ্গলবার, মে ১২, ২০২৬

জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গণ-অভ্যুত্থানে হামলা মামলার আসামি আ’লীগ নেতা 

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (গণ-অভ্যুত্থান) সময় আন্দোলনকারীদের উপর হামলার অভিযুক্ত আসামি এবং টেকনাফ পৌর আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর মো. মনিরুজ্জামান সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্র ঘোষিত পিআর পদ্ধতিসহ ৫ দফা দাবীর কর্মসূচির অংশ হিসেবে টেকনাফ উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত মিছিল ও সমাবেশে তাকে দেখা যায়। আওয়ামী লীগ নেতার জামায়াতের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
মিছিলোত্তর সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কক্সবাজার জেলার আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী।
সাবেক কাউন্সিলর মো. মনিরুজ্জামান জুলাই-আগস্টের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা এবং সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে বর্তমানে একটি মামলার আসামি। টেকনাফ মডেল থানার মামলা নম্বর ৫৪৪/২৪ইং-এ তিনি অভিযুক্ত।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে মামলার বাদী মোহাম্মদ রফিকুর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জুলাই-আগস্টের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার হামলার ও সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযুক্ত আসামি এবং নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের কমিটিতে দায়িত্ব থাকা ব্যক্তি ৫ ই আগস্টের পরে কিভাবে জামায়াতের ইসলামী মত দলের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে? তাহলে কি আমরা ধরে নিবো আওয়ামী লীগের দোসরদের কে জামায়াতে ইসলামী পুনর্বাসন করছে? গণ-অভ্যুত্থানের আন্দোলনকারীদের হামলাকারী আওয়ামী লীগের দোসরকে জামায়াতে ইসলামী দলের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া খুব দুঃখজনক।”
আওয়ামী লীগ ও কৃষক লীগের দায়িত্বে ছিলেন মনিরুজ্জামান
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মনিরুজ্জামান নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ টেকনাফ পৌর শাখার  আব্দুর রহমান বদি সভাপতি ও মোহাম্মদ আলম বাহাদুর সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে কার্যকরী কমিটির সদস্য ছিলেন।
অন্যদিকে, তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের টেকনাফ পৌর শাখার আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পদেও ছিলেন। টেকনাফ পৌর আওয়ামী লীগ ও কৃষক লীগের একাধিক নেতাকর্মী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ৫ই আগস্টের আগেও মনিরুজ্জামান আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন, যার প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন প্রোগ্রামের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাও: রফিক উল্লাহ’র কাছে জানতে চাইলে তিনি গাড়িতে আছেন পরবর্তী যোগাযোগ করবে বললেও আর যোগাযোগ করেনি।
অন্যদিকে, টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর বলেন, “আওয়ামী লীগের যে সকল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তাদের আটক করার জন্য অভিযান চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক আসামিকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, সাবেক কাউন্সিলর মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও ছিল। ২০২২ সালের ২ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগে মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় কক্সবাজার জেলা জজ আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারক মুনসী আব্দুল মজিদ তার অবৈধ সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ১০ জুলাই দুদক তার ৪ কোটি ৩১ লাখ ৪৬ হাজার ৭০৩ টাকার অবৈধ সম্পদ জব্দ করেছিল।
এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে— গণ-অভ্যুত্থানের আন্দোলনকারীদের উপর হামলা মামলার অভিযুক্ত আসামি এবং দুর্নীতি মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণ স্থানীয় রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে?

সর্বাধিক পঠিত