রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন বিজয়ী ও পরাজিত আলোচিত প্রার্থীরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারের সময়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সুপরিচিত নেতাদের পাশাপাশি কয়েকটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা নতুন করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন।
এর মধ্যে আমির হামজা, রুমিন ফারহানা, মির্জা আব্বাস, নাহিদ ইসলাম, ফজলুর রহমান, নুরুল হক নুর, হাসনাত আবদুল্লাহ, হান্নান মাসউদসহ কয়েকজন জয়লাভ করেছেন।
তবে কয়েকজন হেরে গেছেন। তারা হলেন- নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, তাসনিম জারা ও মামুনুল হক, সারজিস আলম, আমিনুল হক ও মেঘনা আলম।
কুষ্টিয়া-৩ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আমির হামজা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৫৩ হাজার ৭৮১ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৯০ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাকির হোসেন সরকার। তিনি পান ১ লাখ ২৬ হাজার ৯০৯ ভোট।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা হাঁস প্রতীকে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯২৭ ভোট।
ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট। গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ট্রাক প্রতীকের মেঘনা আলম ৬০৮ ভোট পেয়েছেন।
ঢাকা-১১ আসনে ২ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন এনসিপির প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলাম। এই আসন থেকে শাপলা কলি প্রতীকে তিনি মোট ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুম। তিনি পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট।
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে বিএনপি প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান ৭৭ হাজার ৭০৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১ লাখ ৩২ হাজার ৫০৩ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রোকন রেজা শেখ পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৭৯৯ ভোট।
পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুর ট্রাক প্রতীকে ৭৩ হাজার ৯৩৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হাসান মামুন ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ৪৭ হাজার ৯৩০ ভোট পেয়েছেন।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ১ লাখ ৭২ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাক প্রতীকের জসীমউদ্দীন পেয়েছেন ২৬ হাজার।
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে আব্দুল হান্নান মাসউদ শাপলা কলি প্রতীকে ৯০ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী বিএনপির মাহবুবের রহমান শামীম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৩৭২ ভোট।
ঢাকা-৯ আসনে সাবেক এনসিপি নেত্রী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। তাসনিম জারা এই আসনে তৃতীয় হয়েছেন। ফলাফলে জয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি মোট ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়েছেন।
ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক ৮৬ হাজার ৬৭টি ভোট পেয়ে পরাজিত হন। তাকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭টি ভোট।
পঞ্চগড়-১ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও এনসিপি উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। তার প্রতীদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মুহম্মদ নওশাদ জমির ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
ঢাকা-১৬ আসনে ফলে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল বাতেন। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. আমিনুল হকের চেয়ে ৩ হাজার ৩৬১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন৷ নির্বাচনে আব্দুল বাতেন মোট ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়েছেন। আর আমিনুল হক পান ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রধান দলগুলোর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির শীর্ষ ৩ নেতা নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। তবে হেরে গেছেন জাতীয় পার্টির জিএম কাদের ও ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসা কৃষ্ণ নন্দী হেরে গেছেন বিএনপি প্রার্থী আমীর এজাজ খানের কাছে।
অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন নির্বাচনে জিতলেও হেরে গেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারি।

সর্বাধিক পঠিত