সোমবার, ডিসেম্বর ১, ২০২৫

বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নিলাম বাগান থেকে সুপারি চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (BORI) কক্সবাজার ক্যাম্পাসে নিলামপ্রাপ্ত সুপারি বাগান থেকে নিয়মিত চুরির অভিযোগ তুলেছেন নিলামপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী মনজুর আলম। তাঁর দাবি, রাতে বাগানে তাঁর কর্মচারীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না, আর সেই সুযোগে অসাধু কর্মচারী ও স্থানীয় একটি চোর সিন্ডিকেট সুপারি নিয়ে যাচ্ছে।
মনজুর আলম জানান, গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ইনস্টিটিউটের স্মারক নং ৩৯.০৮.০০০০.০০৯.৯৯.০০৯.১৯.৬৫০ অনুযায়ী কক্সবাজার ক্যাম্পাসের সুপারি বাগান তিনি ১,৫১,৫৯০ টাকায় নিলামে পান। কার্যাদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, গেট পাস নিয়ে নিলামপ্রাপ্ত ব্যক্তির লোকজন বাগানে প্রবেশ করে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবেন।
কিন্তু তাঁর অভিযোগ, “বাস্তবে রাতে আমাদের কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। এর সুযোগে অসাধু কর্মচারী ও স্থানীয় কিছু লোক মিলে বারবার সুপারি চুরি করছে। সর্বশেষ ১৮ অক্টোবর রাতে চারটি গাছের সুপারি চুরি হয়। একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
মনজুর আলম আরও দাবি করেন, “ইনস্টিটিউটের ভেতরে কিছু কর্মচারী চোর সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। আমি চুরি ঠেকাতে নিজস্ব লোক মোতায়েন করতে চাই, কিন্তু অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।”
এই বিষয়ে জানতে ইনস্টিটিউটের নিরাপত্তা ইনচার্জ মো. ইমরান–এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সুপারি চুরির অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তবে বাগান চুরির ঘটনায় ‘মশিউর’ নামের একজন কর্মচারীর সম্পৃক্ততা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে কৌশলে ফোনটি কেটে দেন।
এ বিষয়ে ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ও বিভাগীয় প্রধান মো. রনি আব্বাস হাওলাদার বলেন, “সবকিছু টেন্ডারের নিয়ম অনুযায়ী চলছে। চুরির অভিযোগ সঠিক নয়। ইনস্টিটিউটে ৯ জন আনসার সদস্যসহ মোট ১৬ জন নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্বে রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “গেট পাস নিয়েই নিলামপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বাগানে প্রবেশ করে কাজ করছেন। তবে রাতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা নিরাপত্তা জনিত কারণে এবং তা উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে দেওয়া হয়েছে।”
নিলামপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীর দাবি ও প্রশাসনের বক্তব্যের মধ্যে সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীর অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও ইনস্টিটিউটের নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সর্বাধিক পঠিত