বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬

বৃষ্টির পানিতে পা ডুবিয়ে পরীক্ষা দিল পরীক্ষার্থীরা

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক
মাত্র সোয়া এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে পরীক্ষা দিতে হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের। কোনো কোনো কেন্দ্রে মোমবাতি ও চার্জলাইট জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে সোয়া ১১ পর্যন্ত বৃষ্টি হলেও নগরীর লাকসাম রোড, জেলা স্কুল রোড, রেসকোর্স, বিসিক শিল্পনগরী, কুমিল্লা নগর ভবনের সমনের সড়ক, ঈদগাহ এলাকা, ছাতিপট্টি, চর্থা, কান্দিরপাড়-রাণীর বাজার সড়ক, ঠাকুরপাড়া-অশোকতলা, ছায়া বিতান, শুভপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকরা। বৃষ্টি ও ঝড় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ চলে যায়।
কুমিল্লার ঈশ্বর পাঠশালা স্কুল কেন্দ্রের সামনে পরীক্ষা শেষে ছেলেকে নিয়ে বাসায় ফেরার পথে অভিভাবক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘পরীক্ষা শুরু হওয়ার ২০ মিনিট পরেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর মোমবাতি ও চার্জার লাইট দিয়ে ভেতরে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রে পানি প্রবেশ করে। স্কুলের পুরোনো ভবনে যেসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা দিয়েছে তাদের অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে লিখতে হয়েছে। পানিতে পা ডুবিয়ে রেখেই পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এর বিকল্প ছিল না।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, বিগত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়নে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার রাস্তাঘাট ও ড্রেনের কাজ হয়। নগরীর শাসনগাছা, রেসকোর্স, বাগিচাগাঁও, ফায়ার সার্ভিস রোড, কান্দিরপাড় নজরুল অ্যাভিনিউ, রানীরবাজার, অশোকতলা, স্টেশন রোড, পুলিশ লাইন, জেল রোড, ধর্মসাগরের পশ্চিম পাড়, ঝাউতলা, বাদুরতলা, মনোহরপুর, সার্কিট হাউজ রোড, আদালতের মোড়, তালপুকুর রোড, ফয়জুন্নেসা স্কুল রোড, ডাক্তার পাড়া, সদর হাসপাতাল রোড, ছাতিপট্টি, রাজগঞ্জ, মোগলটুলীসহ প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতা নিরশনে সিটি করপোরেশন বক্স ড্রেন নির্মাণ করলেও অজ্ঞাত কারণে এসব ড্রেন পানি নিষ্কাশনে কোনো কাজে আসছে না।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ‘কুমিল্লা সিটির জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের। অতীতে যারা এ নগরীর দায়িত্ব পালন করেছে তাদের অবহেলার কারণে আজ নগরবাসী খেসারত দিচ্ছে। আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি মাত্র কয়েক দিন হলো।
বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে লক্ষ্যে আমরা কারণসমূহ চিহ্নিত করে সরেজমিন পরিদর্শন করছি। তা ছাড়া স্থায়ীভাবে নগরবাসীকে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে ইতোমধ্যে বৃহৎ পরিকল্পনা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।’
কুমিল্লা আবহাওয়া কর্মকর্তা ছৈয়দ আরিফুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কুমিল্লাজুড়ে আরো দুই দিন মাঝারি ও ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত