রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

রুমায় আঞ্চলিক পরিষদ সদস্যকে এস মং কে নিয়ে জলকেলিতে মাতোয়ারা পলিকা পাড়াবাসী

খালেদ মাহবুব খাঁন আরাফাত, বান্দরবান
মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ উৎসব মাহা সাংগ্রাই পোয়ে উপলক্ষে বান্দরবানের রুমা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পলিকা পাড়ায় উৎসব উদযাপন কমিটির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য জলকেলি (মৈত্রী পানিবর্ষণ), সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য শ্রী কে এস মং।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,“বান্দরবান একটি অসাম্প্রদায়িক জেলা, যেখানে সকল জাতিসত্তার মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করছে। আধুনিকতার ভিড়ে এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী উৎসব আমাদের সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।”
\অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ভদন্ত ইন্দিরা মহাথের, বিহারাধ্যক্ষ, পলিকা পাড়া বৌদ্ধ বিহার, রুমা, বান্দরবান। আলোচক ছিলেন উঃ নাইন্দিয়া থেরো, নির্বাহী পরিচালক, অগ্রবংশ অনাথালয়, রুমা।
বিশেষ অতিথি ছিলেন উঃ চনুমং মারমা, সভাপতি, কেন্দ্রীয় সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন পরিষদ, বান্দরবান জেলা; মানস বড়ুয়া, অফিসার ইনচার্জ (ওসি), রুমা থানা; উঃ শৈমং মারমা (শৈবং), সাবেক চেয়ারম্যান, ২নং রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদ; উচো মং মারমা, সাধারণ সম্পাদক, আদিবাসী ফোরাম, বান্দরবান জেলা; মাহাবুব হাসান খান বাবুল, প্রকাশক, পাহাড় কণ্ঠ ডটকম; এবং প্রকৃতি বড়ুয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শৈচিংথুই মারমা, হেডম্যান, ৩৫৩ নং কোলাদী মৌজা ও সভাপতি, পলিকা পাড়া সাংগ্রাইং উৎসব উদযাপন কমিটি। সঞ্চালনায় ছিলেন মংমিন মারমা, সাধারণ সম্পাদক, একই কমিটি।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে উঃ চনুমং মারমা উৎসব আয়োজকদের সহযোগিতার জন্য নগদ অর্থ প্রদান করেন।
এসময় তিনি বলেন, “সাংগ্রাই শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির প্রতীক।
এধরনের আয়োজন সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য জোরদার করে এবং নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখে।
এ ধারা অব্যাহত রাখতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
উৎসবে নারী, পুরুষ ও শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আয়োজনকে করে তোলে প্রাণবন্ত। মৈত্রী পানিবর্ষণের মাধ্যমে একে অপরের প্রতি শুভকামনা বিনিময় ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।
এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে মারমা সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি ও জীবনধারার অনন্য উপস্থাপন দর্শকদের মুগ্ধ করে।
বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি এক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ মিলনমেলায় পরিণত হয়, যা
পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বাধিক পঠিত