কক্সবাজারে ‘আল্-গণি’ রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে ৩০ পর্যটক হাসপাতালে!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কক্সবাজারে আল্-গণি রেস্টুরেন্টের বারবিকিউ খেয়ে অন্তত ৩০ পর্যটক ‘ফুড পয়জনিং’ আক্রান্ত হয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরা সকলেই রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে আসা শিক্ষক।
শুক্রবার রাতে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা গ্রহণের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার ( আরএমও ) ডা. তানবী জান্নাত।
চিকিৎসা নেয়া ৩০ জনের মধ্যে ২২ পর্যটকের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন- গোলাম মোর্শেদ, মাহবুব আলম, আব্দুল মোমিন, মৌ, রুমা, আসমানী, মরিয়ম, মোমেন, মরিয়ম, মশিউর, মাসুম বিল্লাহ, আনোয়ার, সাবাব উল্লাহ, জাহির, আমিনুল ইসলাম, মাসুম উল্লাহ, আজহারুল আলী, কামরুজ্জামান, আবু বকর, আব্দুল মঈন, গিতা বালা ধর, আয়ান।
তবে চিকিৎসা নেয়া অপর ৮ জনের নাম পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ডা. তানবী জান্নাত জানান, রাত সাড়ে ১১ টার পর থেকে একে একে এসব পর্যটক হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। তারা সকলেই ফুড পয়জনিং আক্রান্ত ছিলেন। বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা জনিত সমস্যা নিয়ে নিতে আসা পর্যটকরা জানিয়েছেন, ‘আল্-গণি’ নামের একটি রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে এরা অসুস্থ হন। তাদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ ১২ জন ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল।
শনিবার বেলা ১২ টার দিকে কিছুটা সুস্থতাবোধ করলে তাদের হাসপাতালের ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে বলে জানান, হাসপাতালটির আরএমও।
হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া আব্দুল মোমিন নামের এক পর্যটক জানান, রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষকদের ১৩০ জনের একটি দল নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমনে আসেন। শনিবার রাতে তাদের মধ্যে ৩০ জনের একটি দল আল্-গণি রেস্টুরেন্টের কলাতলীস্থ শাখায় গিয়ে বারবিকিউ খান। যারাই খেয়েছেন তারা সকলেই কম-বেশি অসুস্থ হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর কিছুটা সুস্থতাবোধ করেন। শনিবার বেলা ১২ টার দিকে হাসপাতালের চিকিৎসক তাদের ছাড়পত্র দেন।
ভুক্তভোগী এ পর্যটক জানান, শনিবার দুপুরে তারা ট্রেন যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা দিয়েছেন। ঢাকায় গিয়ে পরবর্তীতে তারা ফলোআপ চিকিৎসা নেবেন।
মশিউর নামের অপর এক পর্যটক জানান, বারবিকিউ খাওয়া সকলেই বমি, প্যাট ব্যাথা এবং পায়খানা শুরু হয়। এতে বলা যায় প্রতিষ্ঠানটির খাবার মান সঠিক ছিল না। প্রশাসনকে এটা তদন্ত করে দেখার আহবান জানান তিনি।
পর্যটন শহর কক্সবাজারে সুনামধন্য এমন প্রতিষ্ঠানটির খাবার খেয়ে যেহেতু পর্যটকরা অসুস্থ হয়েছেন; তাই সব রেঁস্তোরায় স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশনে নিয়মিত যাচাই করার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদ্যোগ জরুরি বলে দাবি জানান, ভুক্তভোগী এ পর্যটক।
বিষয়টি নিয়ে আল্-গণি রেস্টুরেন্টের মালিক মোহাম্মদ রুবেলের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিক কল করা হলেও কোন ধরণের সাড়া না দেয়ায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের প্রচার করা একটি বিবৃতিতে আল্-গণি রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “ প্রতিষ্ঠানটির বারবিকিউ খেয়ে নয়; সৈকতের পাড়ের কাঁকড়া খেয়ে এসব পর্যটক অসুস্থ হয়েছেন। “