রবিবার, মে ১০, ২০২৬

শিক্ষা বঞ্চিত হলে রোহিঙ্গারা মানবিক ঝুঁকিতে পড়বেঃ প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কক্সবাজারের উখিয়ায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও লার্নিং সেন্টারগুলোর কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
রোববার সকালে তিনি উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে সেখানে পরিচালিত শিক্ষা কার্যক্রম, শিশুদের উপস্থিতি, পাঠদানের পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
সকাল ১০টার দিকে প্রতিমন্ত্রী ক্যাম্পে পৌঁছালে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তাঁকে স্বাগত জানান। পরে তিনি ইউনিসেফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত কয়েকটি লার্নিং সেন্টার ঘুরে দেখেন। এ সময় শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। শিশুদের পাঠগ্রহণ, ভাষাগত দক্ষতা, পাঠ্যবই ও শিক্ষাসামগ্রীর প্রাপ্যতা নিয়েও খোঁজ নেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, “রোহিঙ্গা শিশুদের মানবিক বাস্তবতা বিবেচনায় শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা অত্যন্ত জরুরি। একটি শিশু যদি দীর্ঘ সময় শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে, তাহলে তার মানসিক ও সামাজিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। আমরা চাই, তারা যেন হারিয়ে যাওয়া একটি প্রজন্মে পরিণত না হয়।”
তিনি বলেন, “বর্তমানে লার্নিং সেন্টারগুলোতে মিয়ানমারের কারিকুলাম অনুসরণ করে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা সরকার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। ভবিষ্যতে তারা নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করলে যেন শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে না পড়ে, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
ক্যাম্পে কর্মরত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
এসময় বলেন, “শিশুদের জন্য নিরাপদ ও ইতিবাচক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে তারা সহজেই হতাশা, অপরাধ কিংবা উগ্রপন্থার ঝুঁকিতে পড়ে যেতে পারে। তাই শিক্ষা শুধু পাঠদান নয়, এটি তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কয়েক লাখ শিশুর জন্য বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় লার্নিং সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে মূলত প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা, ভাষা শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও মানসিক সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে শিক্ষক সংকট, সীমিত অবকাঠামো, শিক্ষাসামগ্রীর ঘাটতি এবং দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
প্রতিমন্ত্রীর সফরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আরআরআরসি কার্যালয়ের প্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উখিয়া সফর শেষে বিকেলে তাঁর কক্সবাজার জেলা সদরের কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।
তিনি আগামীকাল সকালে সফরের শেষ দিনে কক্সবাজার সার্কিট হাউস থেকে বান্দরবান জেলা সফরের উদ্দেশ্যে রওনা দিবেন। সেখান তিনি বান্দরবান সদর ও লামা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের কথা রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত