Friday, June 26, 2026

আ.লীগের মিছিলে গেলেই অর্ধেক মাসের বেতন, ১৫ দিনেই জামিনের নিশ্চয়তা!

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক 
ফেনীতে দুইভাগে বিভক্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। একদিকে ২০২৪ এর একতরফা ভোটের এমপি আলাউদ্দিন নাসিম অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী। দুই গ্রুপে এখন মিছিল করাতে বেশ তৎপর। মাসিক বেতনের অর্ধেক টাকার বিনিময়ে করানো হচ্ছে ঝটিকা মিছিল। মাথাপিছু ৩ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দেওয়া হচ্ছে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত।
নেতৃত্বদানকারীদের দেওয়া হচ্ছে আরো বেশি টাকা। মিছিলের জন্য বিশেষ করে টার্গেট করা হয়েছে শিশুদের। গত ১৭ জুন সকালে ফেনী বড় হাজার, শহরের স্টেশন রোডে ঝটিকা মিছিল করে। গ্রেপ্তার হলে ১৫ দিনের মধ্যে ছাড়ার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। মিছিলসহ যেকোনো কর্মসূচি ঠেকাতে মাঠে তৎপর রয়েছে পুলিশ।
ফেনী শহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফেনী মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোনেম শাহরিয়ার চৌধুরী বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এ মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে ইতোমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আসামিরা হলেন— ফেনী পৌরসভার উত্তর সহদেবপুর এলাকার হারুন উর রশিদের ছেলে মো. জামিউল ইসলাম রাসেল (২০), সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের আলোকদিয়া এলাকার মো. ইলিয়াছ চৌধুরীর ছেলে ইসতিয়াক মাহমুদ শাওন (১৯), শহরের একাডেমি এলাকার আবু জাফরের ছেলে তাসফিরুল ইসলাম তাসফি (১৯), কালিদহ ইউনিয়নের ভালুকিয়া এলাকার ইদ্রিস ভূঁইয়ার ছেলে ইফতেখার আহমেদ ফাহিম (১৯), আলোকদিয়া এলাকার শামসুদ্দিনের ছেলে কাজী রাশিদ আহম্মেদ রাব্বী (৩০), ফেনী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের পেয়ার মাস্টারের ছেলে গালিব (২১), ফরহাদনগর ইউনিয়নের নৈরাজপুর এলাকার মোহাম্মদ মোস্তফার ছেলে গোলাম রহমান জিগানী (৩৫), উত্তর সহবেনপুর এলাকার ইদ্রিস ভূঞার ছেলে সাকির হোসেন ফাহিম (২৫), আলোকদিয়া এলাকার ফারুকের ছেলে অয়ন (১৯) ও ফেনী পৌরসভার কামাল, সড়ক এলাকার সায়মন (২২)। এরমধ্যে মোহাম্মদ জামিউল ইসলাম, মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ, মোহাম্মদ তাসফিক ইসলাম, ইসতিয়াক মাহমুদ, শাওন সাইমুন চৌধুরী ও মো. হাসান ইশানকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে উপরোল্লিখিত তথ্য।
পুলিশের একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একজন চাকরি করে বেতন পায় ১৪ হাজার টাকা। তাকে মিছিলে অংশ নেওয়ার জন্য বেতনের অর্ধেক দিবে বলায় সে অংশ নেয়। একইভাবে এরকম আরো দুইজন ৫ হাজার ও ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে মিছিলে অংশ নেয়। এছাড়া মিছিলের পেছন থেকে কারা নেতৃত্ব দিচ্ছে, কারা যোগাযোগ করছে ও অর্থের জোগানদাতা কারা এসব তথ্য জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে বলে পুলিশ জানায়।
অন্যদিকে গোয়েন্দা সংস্থা ও দলটির একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিছিলের জন্য আওয়ামী লীগের টার্গেট এখন শিশুরা। শিশুদের টার্গেটের কারণ হলো, যেন গ্রেপ্তার হলে দ্রুত বের করে নিয়ে আসা যায়। মিছিলে অংশ নেওয়ার জন্য বিনিময় হিসেবে অনেককে দুই হাজার টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা অফার দেওয়া হয়। এরমধ্যে নেতৃত্ব দেওয়া শর্তে ৫ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত অফার দেওয়া হয়। এছাড়া গ্রেপ্তার হলে ১৫ দিনের মধ্যে ছাড়িয়ে নিয়ে আসার আশ্বাসও দেওয়া হচ্ছে নেতাদের থেকে। একদিকে ভারত থেকে আলাউদ্দিন নাসিম ও অন্যদিকে মালয়েশিয়া থেকে নিজাম উদ্দিন হাজারী মিছিলের বিষয়গুলো তদারকি করে থাকেন।
তদারকির পেছনে ফেনী সদর, ফেনী পৌর, দাগনভূঞা উপজেলা আওয়ামী লীগ, জেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও তদারকি করে থাকেন বলেন দলটির একটি সূত্র জানায়।
সূত্রটি আরো জানায়, মিছিলের জন্য মাস্টারপাড়া, স্টেশন রোড ও নিজাম হাজারীর বাড়ির আশপাশ এলাকা তল্লাশি করা হয়। এছাড়া ভোর ৫টা থেকে ৬টা বা সাড়ে ৬টার মধ্যে করে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়। অন্যদিকে ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে মিছিলের পরিকল্পনা করেছিল বলে গোয়েন্দা সংস্থা ও দলটির একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।
অবশ্য আওয়ামী লীগের তৎপরতা বৃদ্ধির পেছনে পুলিশের একটি চক্র ও বিএনপির কতিপয় সুবিধাভোগী নেতা এমনকি কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীরও যোগসাজশ রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে।
এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলসহ যে কোনো কর্মসূচি ঠেকাতে ইতোমধ্যে মাঠে তৎপর রয়েছে পুলিশ।
আওয়ামী লীগের তৎপরতার বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী মডেল থানার ওসি গাজী ফৌজুল আজীম কালবেলাকে বলেন, পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। যেকোনো তৎপরতা ঠেকাতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।
ফেনীর নবাগত পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার কালবেলাকে বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট এ নিয়ে কাজ করছে। যেকোনো অবৈধ তৎপরতা শক্ত হাতে দমন করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত