শুক্রবার, মে ৮, ২০২৬

ইরানের ‘অচল’ ১০০ বিলিয়ন ডলার: কোথায় আটকে, কেন মুক্তি পাচ্ছে না

চিটাগং ট্রিবিউন ডেস্ক 

যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো তাদের জব্দ হওয়া সম্পদ ফেরত দেওয়া। আসন্ন ওয়াশিংটন-তেহরান দ্বিতীয় দফা বৈঠক ঘিরেও বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ আটকে রয়েছে। এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে তেল ও গ্যাস বিক্রি থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ, বিদেশি ব্যাংকে জমা অর্থ এবং বিভিন্ন আর্থিক বিনিয়োগ।

বর্তমানে এই অর্থ চীন, ভারত, ইরাক, কাতার, জাপান এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জব্দ অবস্থায় রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, চীনে অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলার, ভারতে প্রায় ৭ বিলিয়ন, ইরাকে ৬ বিলিয়ন, কাতারে ৬ বিলিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে।

এই সম্পদ জব্দের ইতিহাস শুরু হয় ১৯৭৯ সালে, তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে জিম্মি সংকটের পর যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার ইরানের সম্পদ জব্দ করে। পরবর্তীতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা একাধিক দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

জব্দ করা এসব অর্থ আন্তর্জাতিক ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত থাকে। নিষেধাজ্ঞা, আদালতের নির্দেশনা এবং নীতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে ইরান এসব অর্থ উত্তোলন, স্থানান্তর বা বিনিয়োগ করতে পারে না।
ফলে তেল বিক্রির আয় থাকলেও তা পুরোপুরি ব্যবহার করার সক্ষমতা নেই তেহরানের। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং বিনিয়োগ সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অর্থ ফেরত এলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে, রিয়ালের মান স্থিতিশীল হতে পারে এবং আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। পাশাপাশি তেল, বিদ্যুৎ, পানি ও অবকাঠামো খাতে বড় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
তাদের মতে, যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন, শিল্পখাতের আধুনিকায়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারেও এই বিপুল সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত